[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৫, ১৮ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

ভবিষ্যত অর্থনীতির ভিত্তি হবে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’

রহমান মাসুদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-১৩ ১১:২৪:৫৩ পিএম
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা: বাংলাদেশের ভবিষ্যত অর্থনীতির ভিত্তি হবে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ বা ‘গভীর নদী খনন’। এজন্য সরকার প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিষয়টি মাথায় রেখে নেয়া হচ্ছে বিষদ পরিকল্পনাও।

বাংলানিউজকে মন্ত্রী বলেন, দেশের সব প্রধান নদীগুলোকে পর্যায়ক্রমে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে নদীর পাড় বেধে দেওয়া হবে। এতে চিরদিনের মতো নদীভাঙন রোধ করা যাবে। নদী থেকে জমি পুনরুদ্ধার করে গড়ে তোলা হবে নতুন নতুন শহর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হবে এই নৌপথ। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির ভিতও হবে মজবুত ও টেকসই।

তিনি বলেন, নদীর মাটি ব্যবহৃত হবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন যজ্ঞে। নদীর বালু রফতানিক করে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা। উন্নত দেশের মতো নদীকে গড়ে তোলা হবে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। এতে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগের ওপর চাপ কমবে। পণ্য পরিবহনে আসবে নতুন মাত্রা ও গতি। কমবে ব্যবসায়িক ব্যয়ও। তবে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সফলতা কাজে লাগাতে ‘মেইনটেনেন্স ড্রেজিং’ বা রক্ষণাবেক্ষণ খননও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত রাখতে হবে।

অন্যদিকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে পারলে নদী এখনকার মতো ঘনঘন তার পথ পরিবর্তন করে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারবে না। ফলে কমবে মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি। দেশের অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কমবে দারিদ্রের হারও। বাড়বে মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতা। তৈরি হবে কর্মসংস্থান। চাপ কমবে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর ওপর মানুষের চাপ।

উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের পাইলট প্রকল্পর মাধ্যমে ১৬ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের কথা বলেন। এ প্রকল্পে (ক্যাপিটাল ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ-২০১০-১৭) ক্যাপিটাল ডেজিং ও ৪টি ক্রসবার তৈরির মাধ্যমে এ ভূমি উদ্ধার হয়েছে। এখন এ পুরো জমিতে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেজা) এই জোনে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এখানকার পণ্য নদীপথেই দেশে ও দেশের বাইরে রফতানি হবে। যা নৌ যোগাযোগ ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক অবদান রাখবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে এনে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজেই হাত দিয়েছে সরকার। এতে চলাচল যেমন সহজ ও নিরাপদ হবে তেমনি পণ্য পরিবহনেও আসবে গতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃতপ্রায় অভ্যন্তরীণ নৌ-পথসমূহের নাব্য উন্নয়ন ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ভাবে, প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌরুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এরইমধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাস্তবায়নের কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে। 

২৪টি নৌ-রুটের মধ্যে চাঁদপুর-ইঁচালি-হাজীগঞ্জ রুটের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে ৫০ কিলোমিটার নৌপথে ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষ করা হবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর আওতাধীন শ্রীপুর-ভোলা খেয়াঘাট-গংগাপুর রুটের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের কাজও শুরু হয়েছে। যেখানে ২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮ কিলোমিটার নৌপথে (লাহারহাট-ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ভোলা পর্যন্ত) ২৮০ ফুট প্রশস্ততা এবং ১২ ফুট গভীরতায় খনন করা হবে। মোট ১১ দশমিক ৭৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের ফলে সারাবছর ধরে চার মিটার গভীরতা বিশিষ্ট নৌ-পথ হবে এটি।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানায়, প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌ-পথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় বাকি রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে, বরিশাল-ঝালকাঠি-বরগুনা-পাথরঘাট, ভৈরব বাজার-লিপসা-ছাতক-সিলেট, মোংলা-ঘষিয়াখালী, নোয়াপাড়া-খুলনা-গাজীরহাট-বরদিয়া-মানিকদা, দিলালপুর-ঘোড়ডিঙ্গা-চাপড়ঘাট-নিকলি-আটপাড়া-নেত্রোকোনা, পাগলাজোর-মোহনগঞ্জ, মিরপুর-সাভার-জাবরা, সৈয়দপুর-বান্দুরা, হাজরাপুর-জাবরা-ঘিয়র, বরিশাল-পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ, পাবনা-নাটোর-পঞ্চগর, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, চিত্রী-নবীনগর-হোমনা, দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর, ভৈরব-কাটিয়াদী, নরসিংদী বাঞ্চারামপুর-হোমনা,মনুমুখ (মৌলভীবাজার)-কুশিয়ারা মুখ, লাওযাঘর-দুলভৃপুর, চৌকিঘাটা-কালীগংগা, হাসনাবাদ-টর্কী-ফসিলাতলা, চাঁদপুর-চরপ্রকাশ-হিজলা বরিশাল, ঢালারচর-বালিয়াকান্দি-কালিয়ানী। যেখানে এক হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাধারণ ও দুর্যোগ এলাকাসহ মোট ৯৯৭ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের তথ্যমতে, দেশের যেসব নৌ রুট বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে সেই রুটগুলো সচল করতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ১৯৬২-৬৭ সালের দিকে এক জরিপে বাংলাদেশে নৌপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নদীপথের সংখ্যা কমে আসলেও দেশের বর্তমান নৌপথ সচল রাখতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। নদী খননে যে পরিমাণ ড্রেজারের প্রয়োজন তার সংকট রয়েছে এখনও। তাই পর্যায়ক্রমে কাজ হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮
আরএম/এসএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db