ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০, ১৭ জিলকদ ১৪৪১

জাতীয়

চামড়ায় চোখ, ঈদের দিনে চাঁদাবাজ আটক সাভারে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৩-০৯ ০৭:২৮:২২ এএম
চামড়ায় চোখ, ঈদের দিনে চাঁদাবাজ আটক সাভারে

সাভার (ঢাকা):  সামনাসামনি ভালো মানুষ। সব সময় মাথায় টুপি দিয়ে চলেন। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। খুচরা থেকে মাঝারি গোছের নেতা, এমনকি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সেলফি্ তুলে তা ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজেকে এভাবেই জাহির করেন যুবলীগ নেতা হিসেবে। আর এ পরিচয়ের আড়ালেই চলতো চাঁদাবাজি।

তবে বিধি বাম। এবার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করার সময় চাঁদার টাকাসহ হাতে নাতে ধরা পড়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

ঈদের দিন রাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দ্রুত বিচার আইনে সহযোগীসহ কথিত ওই যুবলীগ নেতাকে পাঠানো হয়েছে আদালতে।

আটককৃত যুবলীগ নেতার নাম কাজী মহসীন আলম ওরফে বাবু। তিনি  সাভার পৌর এলাকা ভাটপাড়া মহল্লার মৃত কাজী আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।

এলাকায় ডিজিটাল ব্যানার আর পোস্টারে তিনি কথিত সমাজসেবি। নেতাদের নিজের এলাকায় প্রধান অতিথি করে আয়োজন করেন নানা অনুষ্ঠান। বাণিজ্যিকভাবে সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামে একটি স্কুলও চালান এই যুবলীগ নেতা।
চাঁদা আদায়ের ভুয়া রশিদ।  আর এলাকার বাইরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালান। এমনটিই বলছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

বাংলানিউজকে তিনি জানান, যুবলীগের কথিত এই নেতার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে। এর আগে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার জামিনে ছাড়া পেয়ে যুক্ত হয়েছেন অপকর্মে।

একাধিক যুবলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং এর আমলে মূলত ক্যাডার হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।

তবে সে সময় তার অত্যচারে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠলে তৎকালীন সংসদ সদস্য তাকে বর্তমান এমপি ডা: এনামুর রহমানের মালিকাধীন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাসিক মাসোহারার ব্যবস্থা করে দেন।

তবে সেখানে থেকেও নানা অপকর্মে জড়িয়ে ওই হাসপাতালটির কথিত চাকরি ছাড়তে হয় তাকে। এর মধ্যে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে ফের যুক্ত হলে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির বলয়ে তার প্রভাব প্রতিপত্তিতে শুরু করেন বেপরোয়া চাদাঁবাজি।

সর্বশেষ ঈদের দিন সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের সামনে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া প্রতি ৬০ টাকা করে আদায় শুরু করলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ বেকার ও মৌসুমী চামড়া বিক্রেতাদের মাঝে।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদা আদায়ের সময় সহযোগীসহ ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, কথিত যুবলীগ নেতা বাবু সহযোগীদের নিয়ে বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আতংক সৃষ্টি করেন।

চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাভার পৌরসভার ভুয়া রশিদ ছাপিয়ে জোর করে প্রান্তিক ও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা।

ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান চামড়া ব্যবসায়ীর ছন্দবেশে চাঁদা আদায়কালে হাতে নাতে সহযোগী কামাল হোসেনসহ ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করেন। এসময় তার কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার ১৪ হাজার ৫ টাকা জব্দ করা হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইলিয়াস হোসেন জানান, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭
জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa