ঢাকা, সোমবার, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

পানির তোড়ে ওষুধ বিক্রেতাও খোলা রাস্তায়

আসিফ আজিজ, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭০৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১৭
পানির তোড়ে ওষুধ বিক্রেতাও খোলা রাস্তায় পানির তোড়ে ওষুধ বিক্রেতাও খোলা রাস্তায়/ছবি: আসিফ আজিজ

সাঘাটা, গাইবান্ধা: মধ্যদুপুরে সাঘাটার ভরতখালী বাজারে। যমুনার বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি ঢুকেছে বাজারে। পাড়ার কোথাও হাঁটুপানি কোথাও গলা সমান। যে বাজারে লোক গমগম করতো সারাক্ষণ, সেখানে এখন কারেন্ট জাল ও ছিপজাল পেতে ধরা চলছে মাছ।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ছিলো হাটবার। এলাকার সবচেয়ে বড় গরুর হাটটিও বসে বাজারলাগোয়া হয়ে।

সামনে কোরবানি ঈদ, তাই জমজমাট হাট। পা ফেলার জায়গা নেই। কাঁচাবাজার, মুদি দোকানিরাও চলে এসেছেন রাস্তার উপর। অনেকের মতোই রাস্তার উপর পাওয়া এক ওষুধ বিক্রেতাকে।

নতুনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠের সামনে রোদের মধ্যে বসেই বিক্রি করছেন ওষুধ। টেবিলের উপর সাজানো ১৮-২০ রকমের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের প্যাকেট। এভাবে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ বিক্রি হতে দেখাটা খুব স্বাভাবিক নয়। একপলকে দেখলে যে কেউ তাকে হকার ভাববে।

পানির তোড়ে ওষুধ বিক্রেতাও খোলা রাস্তায়/ছবি: আসিফ আজিজআলাপে জানা যায়, ওই বিক্রেতার নাম মিজানুর রহমান। বাজারে ওষুধের দোকান আছে তার। কিন্তু তিনদিন হলো দোকানে পানি ঢুকেছে। এখন হাঁটুপানি। মানুষের প্রয়োজনের সময় ওষুধ বিক্রি তো বন্ধ রাখা যায় না। তাই টেবিল নিয়ে বসে গেছেন রাস্তায়।

মিজানুর বলেন, দুদিন হলো পানি বেশি ঢুকে গেছে দোকানে। ওষুধ সব মাচা তৈরি করে রেখে দিয়েছি। দুই প্যাকেটে ভরে বেশি চলে, বন্যাজনিত নানান অসুখে লাগছে এমন ১৮-২০ পদের ওষুধ নিয়ে আসছি।

কোন কোন ওষুধ এসময় বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, বন্যার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকের ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা হচ্ছে। তাই স্যালাইন, ফ্লাজিল, ইমোটিল এগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশি। এছাড়া জ্বর, ব্যথা, গ্যাসের ওষুধের মতো রানিং ওষুধগুলোই রাখছি।
...
সাজানো ওষুধগুলোর মধ্যে স্যালাইন ছাড়া দেখা গেলো নাপা, সেকলো, লোসেকটিল, পিপিআই, নাপা এক্সট্রা, ফ্লু-কে, ন্যপ্রোনিল প্লাস, ওরোমক্স, অ্যামোডিশ প্রভৃতি ওষুধ দেখা গেলো।

গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়ক ভালো থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ আসছে। তবে উপজেলা সদরের সড়কটি রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। বালির বস্তা দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে পানি ঠেকিয়ে রাখার। কিছু জায়গা দিয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে মূল সড়কে। সড়কের কানায় কানায় পানি।

মিজানুরের বাড়িঘর বাজার পেরিয়ে ভাঙারমোড় পূর্বপাড়া গ্রামে। বানের পানিতে ডুবে গেছে ঘর। সাত বছর ধরে চালানো ওষুধের দোকানটিও পানি নিমজ্জিত। একদিকে বন্যাকবলিত মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া, অন্যদিকে নিজের পেট চালানো। সব মিলে মিজানুরের মতো বিপাকে বন্যানিমজ্জিত সাঘাটার কয়েক হাজার মানুষ।

যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাঘাটা, ফুলছড়ি ও পলাশবাড়ি উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ১৯টি ইউনিয়ন এরইমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যার সবশেষটি ছিলো সাঘাটার সানকিভাঙা গ্রাম।

মিজানুরের মতো এলাকার অনেক মানুষই হয়তো ভাবেননি এমন পরিণতির কথা। প্রকৃতির কাছে অসহায় মানুষগুলো দিনাতিপাত করছেন অবর্ণনীয় কষ্টে।

আরও পড়ুন
**‘আইজ  হামাক খাবার নেই, কাঁঠাল সিদ্ধ কইরে খাব’
**রাস্তায় জ্বলছে চুলা, রাস্তায়ই খাওয়া

** গম-ভুট্টা-পাটক্ষেতের উপর দিয়ে চলছে নৌকা!
** পচা ড্রেনে ছিপ ফেলে কেজি কেজি মাছ!
** নির্বাচনী এলাকায় ‘তুলোধুনো’ এমপি দারা!
** তিতুমীরে হিজড়া-ভিক্ষুকের রাজত্ব!
** পেরেছে কলকাতা-রাজশাহী, পারলো না শুধু ঢাকা!
** ‘নির্বাচিত হলে গ্রামেও আনবো ডিজিটাল সুবিধা’
** এমপি হলে পুরো বেতন অসচ্ছল নেতাকর্মীদের দেব
** ভরসন্ধ্যায় নির্বাচনী উত্তাপ রাজশাহী মহানগর আ'লীগ অফিসে

** এই আমাদের বিমানবন্দর রেলস্টেশন!

বাংলাদেশ সময়: ১২৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১৭
এএ/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa