[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
bangla news

বগুড়ায় ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডিসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-৩০ ৫:৫৮:১২ এএম
হাসপাতালে মা-মেয়েকে দেখতে যান বগুড়া জেলা প্রশাসক

হাসপাতালে মা-মেয়েকে দেখতে যান বগুড়া জেলা প্রশাসক

বগুড়া: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) চিকিৎসাধীন ধর্ষিতা শিক্ষার্থী দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী।

রোববার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শজিমেকে চিকিৎসাধীন ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
 
দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধির নাম আসায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
জেলার এডিএম আব্দুস সালামকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।    
 
তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ওই পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তাও দিবে জেলা প্রশাসন।
 
এর আগে শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বগুড়া পৌরসভার ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির চকস‍ূত্রাপুর এলাকার বাসায় সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েটি ধর্ষণ ও শালিসের নামে  মা-মেয়ের ওপর অমানবিক এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়।
 
নির্যাতনের শিকার মা মুন্নি বেগম বাদি হয়ে এ ঘটনায় নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ মোট ৯জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার (২৯ জুলাই) ভোর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউন্সিলরের ছোট বোন জামাই বগুড়া শহর শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৪জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  

মামলার বাদি ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, শহরের চকসূত্রাপুর বেগম বাজার লেন এলাকায় তিনি তার মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তার স্বামী ইয়াকুব আলী বগুড়ারনন্দীগ্রাম উপজেলার আতাইল গ্রামে চায়ের দোকান করে সংসার চালান। একমাত্র মেয়ের লেখাপড়ার কারণেই তারা মা-মেয়ে শহরে থাকেন। মেয়েটি চলতি বছর বাদুড়তলার জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাশ করে।
 
এরপর ভালো কলেজে ভর্তির জন্য বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির ভগ্নিপতি (ছোট বোন জামাই) তুফান সরকারের বন্ধু আলী আযম দিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। দিপু তাকে ভর্তিতে সহায়তার জন্য তুফান সরকারের শরণাপন্ন হয়। তুফান ওই ছাত্রীর পারিবারিক অবস্থার বিষয়টি জেনে তাকে কলেজে ভর্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তুফানের সঙ্গে মাঝে মাঝেই মোবাইলে যোগাযোগ করতো ওই ছাত্রী।
 
তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই তুফানের বন্ধু আতিক কৌশলে ওই ছাত্রীকে ডেকে তুফানের চকস‍ূত্রাপুর চামড়াগুদাম এলাকার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তুফান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরদিন ১৮ জুলাই মামলার বাদি তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।
 
এদিকে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন তাদের গুদাম ঘরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তুফানের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তার বড় বোন স্থানীয় নারী কাউন্সিলর রুমকিকে বিষয়টি জানায়। তারা অভিযোগ ত‍ুলেন, ওই ছাত্রী তুফানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
 
এই অভিযোগে ১৮ জুলাই বিকেলে  কাউন্সিলর রুমকি শহরের চকসূত্রাপুর বেগম বাজার লেনে ওই ছাত্রীদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কাউন্সিলরের বাড়ির পাশে অবস্থিত ওইছাত্রীর নানার বাড়িতে গিয়েও হুমকি ধামকি দেয়। ঘটনার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই বাড়ির তালা খোলা হবে না বলেও সে জানায়। বিষয়টি জানার পর বাদি মুন্নি বেগম তার মেয়েকে নিয়ে বগুড়ায় ফেরেন।
 
গত  শুক্রবার (২৮ জুলাই) বাড়ি ফিরে তিনি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নারী কাউন্সিলর রুমকির বাসায় যান। সেসময় কাউন্সিলর রুমকির  মা রুমি বেগম ও ছোট বোন তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ওই বাসাতেই ছিলেন। তারা ওই ছাত্রী ও তার মাকে বসিয়ে রেখে মোবাইল ফোনে দিপু, আতিক, মুন্না, রূপমসহ কয়েকজনকে ডেকে নেয়। নারী কাউন্সিলর কোনো শালিস দরবার না করেই মুন্নি ও তার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মুন্নি ও তার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলর রুমকি এবং তার মা ও বোন ওই ছাত্রী ও তার মাকে বেদম প্রহার করে।
 
এক পর্যায়ে তারা মুন্না নামের যুবকের সহায়তায় ওই ছাত্রী ও তার মায়ের চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। ঘটনার পর আহত ওই ছাত্রীকে শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালকলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০১৭
এমবিএইচ/বিএস

 

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ধর্ষণ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache