[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

বগুড়ায় মা-মেয়ে নির্যাতনকারীদের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-৩০ ৩:৩০:৪৬ এএম
পুলিশের হাতে গ্রেফতার নির্যাতনকারীরা- ছবি: বাংলানিউজ

পুলিশের হাতে গ্রেফতার নির্যাতনকারীরা- ছবি: বাংলানিউজ

বগুড়া: বগুড়ায় ধর্ষিতা শিক্ষার্থী ও তার মাকে পিটিয়ে অমানবিক কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষক তুফান সরকারসহ ৩ জনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

রোববার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আসামিদের হাজির করে ৭দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানান।

আসামিরা হলেন- বগুড়া শহর শ্রমিক লীগ নেতা ধর্ষক তুফান সরকার, সহযোগী আলী আজম দিপু, আতিকুর রহমান ও রুপম হোসেন।
 
দুপুরে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেফতার ৪জনের মধ্যে আসামি আতিকুর রহমান ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি এই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তাই তাকে বাদ দিয়ে বাকি ৩জন আসামির রিমাণ্ড চাওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, পুরো ঘটনাটি জানতে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে তাদের পুলিশ হেফাজতে নিতে আদালতের কাছে রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের ধরতে সর্বোচ্চ পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। এ জন্য তাদের গ্রেফতারে কিছুটা সময় লাগছে যোগ করেন ওসি এমদাদ হোসেন।


এর আগে শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বগুড়া পৌরসভার ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির চকসূত্রাপুর এলাকার বাসায় সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েটিকে ধর্ষণ ও শালিসের নামে  মা-মেয়ের ওপর অমানবিক এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়।

নির্যাতনের শিকার মা মুন্নি বেগম বাদি হয়ে এ ঘটনায় নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ মোট ৯জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার (২৯ জুলাই) ভোর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউন্সিলরের ছোট বোন জামাই বগুড়া শহর শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৪জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বাদি ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, শহরের চকসূত্রাপুর বেগম বাজার লেন এলাকায় তিনি তার মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তার স্বামী ইয়াকুব আলী বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আতাইল গ্রামে চায়ের দোকান করে সংসার চালায়। একমাত্র মেয়ের লেখাপড়ার কারণেই তারা মা-মেয়ে শহরে থাকেন। মেয়েটি চলতি বছর বাদুড়তলার জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাশ করেছে।

এরপর ভালো কলেজে ভর্তির জন্য বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির ভগ্নিপতি (ছোট বোন জামাই) তুফান সরকারের বন্ধু আলী আযম দিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দিপু তাকে ভর্তিতে সহায়তার জন্য তুফান সরকারের শরণাপন্ন হয়। তুফান ওই ছাত্রীর পারিবারিক অবস্থার বিষয়টি জেনে তাকে কলেজে ভর্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তুফানের সঙ্গে মাঝেমাঝেই মোবাইলে যোগাযোগ করতো ওই ছাত্রী।

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই তুফানের বন্ধু আতিক কৌশলে ওই ছাত্রীকে ডেকে তুফানের চকসূত্রাপুর চামড়াগুদাম এলাকার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তুফান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরদিন ১৮ জুলাই মামলার বাদি তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

 
এদিকে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন তাদের গুদাম ঘরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তুফানের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তার বড় বোন স্থানীয় নারী কাউন্সিলর রুমকিকে বিষয়টি জানায়। তারা অভিযোগ তোলে, ওই ছাত্রী তুফানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

এই অভিযোগে ১৮ জুলাই বিকেলে  কাউন্সিলর রুমকি শহরের চকসূত্রাপুর বেগম বাজার লেনে ওই ছাত্রীদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কাউন্সিলরের বাড়ির পাশে অবস্থিত ওই ছাত্রীর নানার বাড়িতে গিয়েও হুমকি ধামকি দেয়। ঘটনার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই বাড়ির তালা খোলা হবে না বলেও সে জানায়। বিষয়টি জানার পর বাদি মুন্নি বেগম তার মেয়েকে নিয়ে বগুড়ায় ফেরেন।

গত  শুক্রবার (২৮ জুলাই) বাড়ি ফিরে তিনি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নারী কাউন্সিলর রুমকির বাসায় যান। সে সময় কাউন্সিলর রুমকির  মা রুমি বেগম ও ছোট বোন তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ওই বাসাতেই ছিলেন। তারা ওই ছাত্রী ও তার মাকে বসিয়ে রেখে মোবাইল ফোনে দিপু, আতিক, মুন্না, রূপমসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন। নারী কাউন্সিলর কোন শালিস দরবার না করেই মুন্নি ও তার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মুন্নি ও তার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলর রুমকি এবং তার মা ও বোন ওই ছাত্রী ও তার মাকে বেদম প্রহার করেন।

এক পর্যারেয় তারা মুন্না নামের যুবকের সহায়তায় ওই ছাত্রী ও তার মায়ের চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। ঘটনার পর আহত ওই ছাত্রীকে শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৬ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০১৭
এমবিএইচ/বিএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ধর্ষণ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache