ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯
bangla news

কর্মচারীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা রাসিক মেয়রের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-২৯ ৯:০৬:২৭ এএম
সংবাদ সম্মেলনে রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদ সম্মেলনে রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি নিয়ে কিছুদিন থেকেই নগর ভবনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিলো। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তিনি দাবি মেনে নিয়েছেন। এখন নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফিরবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বুলবুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সকালেও তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।

এ সময় আগামী দিনে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মেয়র। পরে মেয়র সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র জানান, কর্মচারীদের বেতন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর করপোরেশনের এক হাজার ৩শ’ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন ১০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের অন্যান্য দাবিগুলোরও প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।

তিনি জানান, আগে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে সিটি করপোরেশনের এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ হতো। এখন থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকায়। প্রতিমাসে বাড়তি ব্যয় হবে ৫৫ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবারের (২৭ জুলাই) ঘটনায় অস্থায়ী কর্মচারীরা দুঃখ প্রকাশ করায় তাদের দাবি মানা হচ্ছে। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মেয়র।

কর্মচারীদের শোকজ বা চাকরিচ্যুত না করা এবং চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবির ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কর্মচারীদের ১১ দফা দাবির সব মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন চলে নির্বাচিত পরিষদ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিয়ে। তাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এখানেও সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই কর্মচারীদের কাজ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ আনোয়ারুল আমিন আযব, প্যানেল মেয়র-২ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টিটো, ১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনসুর রহমান, ১৬নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ ও ২৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাহান আলী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে মেয়র বুলবুল এ বিষয়টি নিয়ে কর্মচারী ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। ওই সভায় মেয়রের অনুসারী কাউন্সিলরদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। এতে দুই নারী কাউন্সিলরসহ দুই পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। পরে শনিবার সকালে মেয়র আবার আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এরপরই বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসে।

কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ-নির্মাণের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি দেওয়া, শোকজ বা চাকরিচ্যুত না করা, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকরিতে নিয়োগ এবং মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১৭
এসএস/ওএইচ/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মেয়র
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2017-07-29 09:06:27