bangla news

ট্রলার হারানো জাকিরের কান্নায় ভারী কুয়াকাটা সৈকত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৮-১৪ ৬:১০:৫৮ এএম

সারাজীবনের সঞ্জয়ে কেনা ট্রলার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া অসহায় এক জেলের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকত এলাকা। হাত-পা এলিয়ে নিঃস্প্রাণ বসে থাকা জাকির হোসেন নামের ওই জেলেকে দেখে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে আশপাশের সবার।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): সারাজীবনের সঞ্জয়ে কেনা ট্রলার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া অসহায় এক জেলের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকত এলাকা। হাত-পা এলিয়ে নিঃস্প্রাণ বসে থাকা জাকির হোসেন নামের ওই জেলেকে দেখে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে আশপাশের সবার।

অন্যান্য দুর্ঘটনার মত ট্রলার ডুবির ঘটনায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় জাকির হোসেন সামনে উঠে দাঁড়াবার আর কোনও অবলম্বন দেখছেন না। তার ৩৫ বৎসরের শ্রম বিক্রির জমানো টাকায় গড়ে তোলা ট্রলারটি গত বুধবার মাছ শিকার শেষে মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরছিল। কিন্তু কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ জেলেসহ ট্রলারটি ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের ১০ জেলেকে অপর একটি ট্রলার উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রিয়াজ নামের (২৬) এক জেলেকে এখনও খুঁেজ পাওয়া যায়নি।

ট্রলারসহ মাছ ধরার সব সরঞ্জাম হারানো জাকিরের বুক চাপড়ে কান্নার আকুতি গত শনিবার দিনজুড়ে কুয়াকাটা সাগরপাড়ের সব বয়সের মানুষকে ব্যাকুল করে তোলে। পরিবার-পরিজন ও অনাগত ভবিষ্যতের দুঃশ্চিন্তায় সমুদ্র সৈকতের পরিত্যক্ত একটি ট্রলারের কাছে বসেছিলেন তিনি।

ক্রন্দনরত জাকির জানান, মহাজনদের কাজ থেকে ঋণ করে সরঞ্জমাদি কিনে সাগরে মাছ ধরে গত বছর ইলিশ মৌসুমে নিজ দলের মাঝি-মাল্ল¬াদের নিয়ে কোনও মতে পার করেছেন। আশা ছিলো চলতি মৌসুমে ইলিশ পেয়ে ঋণের টাকা শোধ করার।  

কিন্তু জাকিরের সারা জীবনের সম্বল ট্রলারটি ডুবে গিয়ে সে আশার গুড়ে বালি চাপা দিয়েছে।

শুধু জাকিরের কান্না নয়, গত ক’দিনের বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি ও গলাচিপা উপকুলীয় এলাকার প্রায় ২০/২২ টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় উপকূলীয় এলাকার জেলে পল্লীর অনেক জেলের চোখ এখন অশ্রু সিক্ত।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সাগরে যাওয়া।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সমুদ্রের গভীরে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় ট্রলার ডুবির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ট্রলার দুর্ঘটনায় সম্পদ ও জীবন হানির ঘটনায় ক্ষতিপূরণের কোনও বিধান না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখকে প্রশ্ন করলে তিনি মৎস্য অধিদপ্তরসহ দেশের যে সব বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মৎস্যজীবীদের নিয়ে কাজ করে- তাদেরকে অসহায় জেলেদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, ১৪ আগস্ট, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-08-14 06:10:58