bangla news
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি`র মাধ্যমে প্রথম অনলাইন ক্রোড়পত্রের উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার আশা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৮-০৮ ১০:৩৪:২৬ পিএম

২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ লক্ষ্যে একটি একটি পথ-নকশা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা: ২০১২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ লক্ষ্যে একটি একটি পথ-নকশা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন পথ-নকশা অনুযায়ী কাজ করে আমাদের এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হবে।’

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পেট্রোসেন্টারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলা ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা: বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করে।

১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে দেশের ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন। দিনটিকে স্মরণ করেই সোমবার প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ পালনের উদ্যোগ নেয় পেট্রোবাংলা।

এদিকে সোমবার বিকেলে সেমিনার শুরুর আগেই সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবছর ৯ আগস্ট জাতীয়ভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   
 
দিবসটি উপলক্ষে সেমিনার আয়োজন ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা। এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে সংস্থাটি। অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’র সাইটে কিক করে এ ক্রোড়পত্রের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’র পরিবেশিত বিভিন্ন সংবাদ, তথ্য ও পরিচিতি তুলে ধরেন এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হাসান আজাদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (মার্কেটিং) সিরাজুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ (মার্কেটিং) সঞ্জয় বিশ্বাস ও নিউজ ক্যামেরাম্যান নাজমুল হাসান।

অনলাইনে ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ায় পেট্রোবাংলাকে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এ সময় বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’র প্রশংসা করে এর উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।   

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ ও বাধা অবকাঠামোগত দুর্বলতা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। এর জন্য আমরাই দায়ী।’

তিনি বলেন, ২০১২ সালের মধ্যে আমাদের এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা যে পথ-নকশা করেছি, তাতে এ উত্তরণের উপায় বলে দেওয়া হয়েছে। তবে, এ পথে পিছলে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো উদ্যোগ নিলে কিছুদিন আগেও কেউ বিশ্বাস করতো না। তারা ভাবত, এরা কি পারবে। কিন্তু এখন সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছি।’

দ্রুত-ভাড়াভিত্তিক (কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য টেন্ডার ডাকলাম, অনেকেই ভাবলো অংশ নেবে কিনা। কমিশন দিতে হয়, ঘুষ দিতে হয়। কিন্তু যখন তারা দেখল আমরা অনেক বেশি আন্তরিক তখন এগিয়ে আসতে লাগল।’
 
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে প্রথম অগ্রাধিকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের। এই খাতের উন্নয়নের জন্য টাকা পয়সার অভাব হবে না। কারণ বিদ্যুৎ আমার উন্নয়নের চাবিকাঠি। এ খাতের উন্নয়নের জন্য সব উৎস আমাদের ব্যবহার করতে হবে।’
 
জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তৎকালীণ পাক-শেল থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন বঙ্গবন্ধু। আমরা এখনো সেই গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস পাচ্ছি। এটা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অর্থনৈতিক দুরদর্শিতারই ফসল।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভুঁইয়া, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন ও বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস ও মাইনস) ড. মোল্লা মোহাম্মদ মবিরুল হোসেন।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জন্মটাই বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার সবচে বড় দৃষ্টান্ত। জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন ১৯৭৫ সালের আগেই। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি শেল-এর কাছ থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন। আর এর আগে ১৯৭৩ সালে তিনি বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিকে দিয়ে অফ শোর (গভীর সমুদ্রে) অনুসন্ধানও করিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে কয়লা, সৌর, বায়ু ও আণবিকসহ সব ধরনের উৎস ব্যবহার করতে হবে। কারণ আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের  মধ্যে পৃথিবীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। তাই এগুলোও আমাদের চিন্তার মধ্যে রাখতে হবে।
 
বাপেক্সকে শক্তিশালী করার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের কৌশলগত উন্নয়ন-অংশীদার নিতে হবে। নেত্রকোণা ও কুমিল্লায় নতুন করে গ্যাস পাওয়া গেলে সেই ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নে কৌশলগত অংশীদার নেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রক্রিয়া রয়েছে।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক বলেন, ‘বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা মানে কি তা জনগণকে বোঝাতে হবে। আর বঙ্গবন্ধু যে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন, শেল কোম্পানির কাছ থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেওয়া তারই বড় নজির । নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল না।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এই দেশ সোনারবাংলা হতো।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে আমাদের যত দ্রুত সম্ভব কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে হবে। এজন্য কয়লানীতি শিগগিরই করতে হবে। আমরা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। এটা উল্টো বিষয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে কয়লা দিয়ে।’

‘জ্বালানি খাতে অনেক বেশি ট্যাক্স ও ভ্যাট দিতে হয়’ উল্লেখ করে তা কমানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন।

বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ কলেন, ‘অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে পরিমাণ দক্ষ লোক আমাদের নেই। অনেকে বেতন কাঠামো আবার অনেকে বয়সের কারণে এই খাতে থাকছেন না। বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত।’

মূল প্রবন্ধে ড. মোল্লা মোহাম্মদ মবিরুল হোসেন জানান, ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু মাত্র ১৭ কোটি  ৮৬ লাখ টাকায় শেল থেকে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কেনেন। পরে মোট ১৮টি কিস্তিতে ১৯৮৫ সালে এর মূল্য পরিশোধ করা হয়। গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এরই মধ্যে ৭৮ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মূল্য হলো ৮৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কারণে ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট গ্যাসক্ষেত্রগুলো নিজস্ব সম্পদে পরিণত করায় তৎকালীন চুক্তিমূল্য বাবদ পরিশোধিত টাকা অর্জিত গ্যাস সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্যের ১০ হাজার গুণ বেশি।

স্বাগত বক্তব্যে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, ‘আজকের এই দিন পালন করার উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে জানানো। কারণ বঙ্গবন্ধু তখনই বুঝতে পেরেছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সেই মুক্তির জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। আমরা পেট্রোবাংলা থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি।’

বাংলাদেশ সময় ২০০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-08-08 22:34:26