bangla news

অর্ধেকের বেশি চা বাগানের ইজারাচুক্তি নবায়ন হয়নি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৫-২২ ১১:১৩:০২ এএম

সারাদেশের মোট চা বাগানগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি চা-বাগানের সরকারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হচ্ছে না। মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে নবায়ন বন্ধ আছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার: সারাদেশের মোট চা বাগানগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি চা-বাগানের সরকারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হচ্ছে না। মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে নবায়ন বন্ধ আছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ছোট-বড় মিলিয়ে সারাদেশে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ১৪০টি। আর মৌলভীবাজার জেলায় ৯৩টি চা বাগানের থাকলেও বর্তমানে কাগজেপত্রে আছে ৮৯ টি। এরমধ্যে মাত্র ২০টি বাগানের ইজারাচুক্তি এখন বহাল আছে।

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও টি সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বাংলানিউজকে জানান, ২০১০-১১ সালে মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগানের আদায়যোগ্য ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ তিন কোটি নয় লাখ ১৫ হাজার ৩৮১ টাকা। এর মধ্যে গত ১ জুলাই ২০১০ থেকে ১৫ এপ্রিল ২০১১ পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে এক কোটি ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১২৬.৭০ টাকা। কর আদায়ের হার  ৫৬.৫১%।

তিনি জানান, জেলায় ইজারাবিহীন চা বাগানের সংখ্যা ১৩টি। ইজারা দলিল সম্পাদনের জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে ৬টির। ইজারার মেয়াদ শেষ হয়নি ২০ টি চাবাগানের। এছাড়া মামলার জন্য ইজারা নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি ৫টির।

তিনি আরও জানান, রাজনগর উপজেলাধীন বিমলানগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন নিরালা চা বাগান দুটি বিলুপ্ত ঘোষিত হয়েছে। রাজনগর উপজেলাধীন করিমপুর চা-বাগান এবং কুলাউড়া উপজেলাধীন বরমচাল চা-বাগান দুটি করিমপুর চা বাগান হিসেবে একই ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। বরমচাল চা বাগানটি করিমপুর চা বাগানের একটি ফাড়ি বাগান এবং টি বোর্ডে করিমপুর চা বাগান হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করা রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসীন মিয়া মধু বাংলানিউজকে জানান, সরকারের দীর্ঘসুত্রিতার কারণে বহু বাগানের ইজারা নবায়ন আটকে আছে। বাগান মালিকরা বার বার আবেদন করার পরও সেসব চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে না। বাগান মালিকরা ইজারা চুক্তি করতে বাধ্য।

ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠু বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার বাগানের ইজারাচুক্তি ২০১৩ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা। চুক্তি নবায়নের আগে খাজনাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বাগানের ইজারা নবায়ন প্রক্রিয়া আটকে আছে।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, জেলায় ২০টি বাগানের লিজ নবায়নের আবেদন করা হয়নি। এখন আবার এসব বাগানের অধিকাংশই লিজ নবায়নের করেছে। আর অবশিষ্ট যেসব বাগানের ইজারার মেয়াদ ৫ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে সেসব বাগানের আবেদন বিবেচনার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ‘গত বুধ ও বৃহস্পতিবার আমরা মন্ত্রণালয় থেকে মৌলভীবাজার জেলার ১৬টি চা বাগানের ইজারা দলিল সম্পাদনের আদেশ পেয়েছি। আর যে বাগানগুলো আগে কখনোই ইজারার আবেদন করেনি অতীতে এসব বাগান কর্তৃপক্ষ বাগানের জমি নিজেদের দাবি করে আদালতে মামলা করেছিল। কিন্তু  তারাও এখন ইজারার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছে।’

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-05-22 11:13:02