bangla news

মুজিবনগর দিবস রোববার, বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৪-১৬ ৭:০৯:০১ এএম

রোববার ১৭ এপ্রিল, মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে কুষ্টিয়া জেলার তৎকালীন মেহেরপুর মহুকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়।

ঢাকা: রোববার ১৭ এপ্রিল, মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে কুষ্টিয়া জেলার তৎকালীন মেহেরপুর মহুকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়।

দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে বিকেলে জনসভা হবে মুজিবনগরে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এমএনএ ও এমপিদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। এ সরকারের লক্ষ্য ছিলো স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী ও এইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব  দেওয়া হয়। তদানীন্তন কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

সরকারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণার ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখ-তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।’

ঘোষণাপত্রের নবম অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাহাদের কার্যকরী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারি বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়াছেন সেই ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করিয়া পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্র্তব্যÑসেইহেতু আমরা বাংলাদেশকে রূপায়িত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিতেছি এবং উহা দ্বারা, পূর্বাহ্ণে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করিতেছি।’

ঘোষণায় আরো বলা হয়, ‘এতদ্বারা আমরা আরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন-প্রণয়ণের ক্ষমতার অধিকারী।’

নতুন জন্ম নেওয়া এই রাষ্ট্রের সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা লাভের অদম্য স্পৃহায় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত সর্বন্তরের বিপুল সংখ্যক মান্যুষ ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও নবগঠিত সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। শপথ গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান সেনাপতি ভাষণ দেন। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন।

দিনটি উপলক্ষে রোববার ভোর  ৬টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও দেশের সকল জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং রাজশাহীতে এএইচএম কামরুজ্জামান-এর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।

মুজিবনগরে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

সকাল সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। মুজিবনগর সরকারের যারা গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন তাদের মধ্যে জীবিতরা এবং মুক্তিযোদ্ধারা এই গার্ড অব অনার প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় মুজিবনগরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, সংসদ উপনেতা ও মুজিবনগর দিবস উৎযাপন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। জনসভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-04-16 07:09:01