ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একবছরে ১৮ ট্রেন দুর্ঘটনা

মাসুক হৃদয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একবছরে ১৮ ট্রেন দুর্ঘটনা ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম/ ফাইল ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ২০১৪ সালে দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনা যেন পিছু ছাড়েনি।   একবছরে পূর্বাঞ্চল রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১৮টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে।

 
 
ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে ২০১৪ সালে দীর্ঘসময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকা ছাড়াও রেলপথের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।  
 
অবশ্য ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল রেলপথ এবং মেকানিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটিই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও রেলপথের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং কোথাও কোথাও দুর্ঘটনা এড়াতে ট্র্যাক (রেলপথ) পরিবর্তন করে ট্রেন চালানো হচ্ছে।  
 
তবে, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রেলপথের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই রেলপথের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হবে।  
 
২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতে আশুগঞ্জ স্টেশন আউটারে মালবাহী কনট্রেইনার ট্রেনের একটি বগির চার চাকা লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং সিলেট পথে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।  
 
৯ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় আখাউড়ার গঙ্গাসাগর স্টেশনের কাছে মালবাহী ট্রেনের একটি বগির দুই চাকা লাইনচ্যুত হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের রেল যোগাযোগ প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে।  
 
মার্চ মাসে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনা হয়। এরপরের দেড় মাসে একই স্থানে আরো তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে। সবমিলিয়ে বছর জুড়ে রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ১৮টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে।
 
বেশিরভাগ দুর্ঘটনার শিকার মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন। গঙ্গাসাগর এলাকায় একের পর এক দূর্ঘটনার মুখে মালগাড়ি ও কনটেইনার ট্রেন চলাচলে ট্র্র্যাক পরিবর্তন করা হয়েছে। লুপ লাইনের পরিবর্তে মালবাহী গাড়ি চালানো হচ্ছে মেইন লাইনে।  

গঙ্গাসাগর স্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন জানান, এপথে যেসব ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন। এ পথের লুপ লাইনের অবস্থা তেমন সুবিধাজনক নয়। ফলে মেইন লাইনেই চালাতে হচ্ছে মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন।  
 
আখাউড়ার গঙ্গাসাগর স্টেশন সংলগ্ন রেলপথের জায়গাটিতে প্রায় ঘটেছে দুর্ঘটনা। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, বেহাল রেলপথের উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। প্রায় এক বছর আগে এখানে রেলপথ সংস্কারের মালামাল মজুদ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।
 
তবে সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক আখাউড়া রেলজংশনে আশুগঞ্জ থেকে ফেনীর চিনকী আস্তানা স্টেশন পর্যন্ত ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন।
 
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এ পথে পুরাতন রেল পরিবর্তন করে নতুন রেল বসানো হবে। বদল হবে পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার। এ কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯৯ কোটি টাকা।
 
আখাউড়া রেল জংশনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (পথ ও পূর্ত) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রেলপথের বর্তমান অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। রেলপথ, রেলসেতু ও রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। আখাউড়া গঙ্গাসাগরে ঘন ঘন ট্রেন লাইনচ্যুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই এলাকার মাটিটাই খারাপ। এটাকে বলা হয় ব্ল্যাক কটন সয়েল। বর্ষাকালে এর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এ অবস্থারও উন্নয়ন ঘটানো হবে।
 
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৪ ঘণ্টা,  ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪   

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।