ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাপ শুরু ১ জানুয়ারি

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাপ শুরু ১ জানুয়ারি ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পাবনা (ঈশ্বরদী): ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক ভাবে পানির পরিমাপ শুরু করবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি)। কিন্তু শুষ্ক মওসুম শুরুর আগেই পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর উভয় পাড়ে পানিশুন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।



এককালের প্রমত্তা পদ্মা নদীতে এখন পাল তোলা নৌকার বদলে চাষ হচ্ছে আখসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও সবজি।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরেজমিন পদ্মা নদীর উভয় পাড় ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মা নদী শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। যতদুর চোখ যায় চারিদিকে শুধু ধু-ধু বালুচর ও বিস্তির্ণ আবাদী জমি। প্রশস্ত পদ্মা মরে গিয়ে ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে আসছে। স্থান ভেদে কোথাও কোথাও পদ্মা এখন মাত্র ২শ’ মিটার চওড়া নদী (!) তথ্য সূত্রে জানা যায়, ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তির অনেক বছর পার হলেও কখনোই হিস্যা অনুযায়ী পানি পায়নি বাংলাদেশ।

ফলে শুষ্ক মওসুমে পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যায় দেশের বৃহত্তম ভেড়ামারা গঙ্গা-কপোতা (জিকে) সেচ প্রকল্প। কালের সাক্ষী হয়ে ধু-ধু বালুচরে ও আবাদী জমির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ্ সেতু। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ৮টিই এখন পানিশুন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বালুচরে।

যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হাইড্রোলজি বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, শুষ্ক মওসুমে গঙ্গা নদীর পানির ভাগাভাগির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি পানি চুক্তি করে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়কে অবহিত করে প্রতিটি মাসকে তিন চক্রে ভাগ করা হয়েছে। কোনো চক্রে কি পরিমাণ পানি পাবে তা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। ঠিক মতো পানিবণ্টন হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্যরা প্রতিবছর বাংলাদেশ-ভারত সফর করেন।

যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব সময়ই বঞ্চিত হয়েছে ন্যায্য হিস্যা থেকে। ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে পানির পরিমাপ শুরু করবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টকে পানি প্রবাহ ও গবেষণা পয়েন্ট হিসেবে ধরে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি বিশেষজ্ঞ দল। এ পয়েন্টে দিন দিন পানি প্রবাহের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ভারতের দুই সদস্য বিশিষ্ট এবং বাংলাদেশের তিন সদস্য বিশিষ্ট যৌথ বিশেষজ্ঞ দল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হাইড্রোলজি বিভাগের উপ নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ সহকারী প্রকৌশলী এবং একজন সেকশন অফিসার এবং ভারতের পক্ষে ভারতের পানি গবেষণা মন্ত্রণালয়ের উপ পরিচালক এবং উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী যৌথভাবে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
 
যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্য নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, পানি চুক্তি অনুযায়ী ভারত পাবে ৪০ হাজার আর বাংলাদেশ পাবে ৫৬ হাজার কিউসেক পানি। ফারাক্কার নিয়ম অনুযায়ী পানি পেলেও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক। এসময় পানি পাওয়া গেছে ৬৩ হাজার ৮শ ৫৭ কিউসেক। কম পেয়েছে ৩ হাজার ৬শ ৫৯ কিউসেক।

গত বছর ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে পানি পাওয়া গেছে ৮৮ হাজার ৩৬ কিউসেক। পানি চুক্তি ১ অনুযায়ী ভারত পাবে ৪০ হাজার, বাংলাদেশ পাবে ৪৮ হাজার কিউসেক পানি। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বাংলাদেশের প্রাপ্য হিস্যা ছিল ৫৭ হাজার ৬৭৬ কিউসেক। পাওয়া গেছে ৫১ হাজার ৬৪১ কিউসেক। অর্থাৎ হিস্যার চেয়ে বাংলাদেশ কম পেয়েছে ৬ হাজার ৩২ কিউসেক পানি।

অন্যদিকে পানির অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করার কথা থাকলেও পানির অভাবে ১’লাখ ১৬ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।