ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রজাপতি প্রজনন কেন্দ্র ‘বাটারফাই হাট’

জাহিদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ১, ২০১১
দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রজাপতি প্রজনন কেন্দ্র ‘বাটারফাই হাট’

ঢাকা: প্রজাপতির মেলা বসেছে সাভারে। ‘বাটারফাই হাট’ নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রজাপতি প্রজনন কেন্দ্র।



সেই হাটে রঙ ছড়িয়ে ঘুরে বেড়ায় রঙ- বেরঙের শত শত প্রজাপতি। যা দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকে।

গাছ জন্মানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে এই প্রজাপতির। দেশের পরিবেশ আর প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির প্রজাপতি আর তাদের বাঁচিয়ে রাখতেই ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। জানালেন প্রজাপতির হাটের স্বপ্নদ্রষ্টা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ব শাখার প্রজাপতি গবেষক ড. মনোয়ার হোসেন।
 
ক্যাম্পাসে প্রজাপতি নিয়ে সফল মেলা আয়োজনের পর স্বপ্নটা আরো বেড়ে যায় তার। আর দেশ থেকে যেভাবে ‘প্লেইন টাইগার’ ও ‘কমন মরমন’র মতো প্রজাতির প্রজাপতি হারিয়ে যাচ্ছে তাও ভীষণ উদ্বিগ্ন করে তাকে। তবে সহজেই দমে যাবার পাত্র নন তিনি।

শিার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসের ওয়াইল্ড লাইভ রেসকিউ সেন্টারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে গড়ে তোলেন দেশের প্রথম প্রজাপতি হাট। নাম দেন
‘বাটারফাই হাট’।

আর সেই হাটে বিলুপ্ত প্রায় প্লেইন টাইগার ও কমন মরমন নামের দুই প্রজাতির, ছয়’শ প্রজাপতির কৃত্রিম প্রজনন করে তা ছেড়ে দেন প্রকৃতির কোলে।

কেবল চিত্ত বিনোদনই নয়, প্রজাপতির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নিজের স্বপ্নগুলোকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান গবেষক ড. মনোয়ার হোসেন।

মধ্য ফাল্গুনের মিষ্টি রোদে সেই প্রজাপতির হাটে দেখা গেলো ডানা মেলে ছুটে বেড়ানো রঙ বেরঙয়ের বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি।

মশারির মতো বিশাল জালের মধ্যে নানা জাতের ফল ও ফুলের গাছ। তার মাঝে উড়ে বেড়াচ্ছে প্রজাপতিরা। বাইরে প্রজাপতির ডিম পাড়ার বিশেষ ব্যবস্থা। সেখান থেকে বড় হওয়া বাচ্চার প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার সব ব্যবস্থাই পাকাপাকি।

রৌদ্র বেড়ে যাওয়ায় ঝোপ ঝাঁড় থেকে বের হয়ে আসছিলো নানা প্রজাতির প্রজাপতি। সেই মশারির মাঝে প্রজাপতির প্রজনন নিয়ে ব্যস্ত ড. মনোয়ার।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই এগিয়ে এলেন।

প্রজাপতি নিয়ে আগ্রহ দেখাতেই যেন তার হৃদয় থেকে ঝড়ে পড়লো আরো উৎসাহ আর প্রজাপতির ওপর গভীর ভালোবাসা।

বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এখন পর্যন্ত নানা রঙের প্রায় ১০২ প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

জানালেন, ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসেই ‘ব্যাম্বো ট্রিব্রাউন`, `ট্যারাকাস ন্যারা`, `মানকি পাজল` ও `চেস্টনাট এনজেল` নামের চার প্রজাতির নতুন প্রজাপতি সনাক্ত করা হয়েছে। যা বাংলাদেশে দেখা গেছে প্রথমবারে মতো। এর আগে থাইল্যান্ড, ভারত ও মালয়েশিয়ায় দেখা গেছে এই প্রজাতির প্রজাপতি।

নতুন নতুন প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধানে দেশের বনে-বাদারে ঘুরে ফিরছেন তিনি।
জানালেন, সুন্দরবন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্রগ্রাম ও সিলেটের বনাঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২শ’৫০ প্রজাতির প্রজাপতি সন্ধান পাওয়া গেছে তবে গোটা দেশে জরিপ করলে তা ৫শ`র মতো হবে বলে ধারণা দেন তিনি।

ইতোমধ্যে নিজের গবেষণায় প্রাপ্ত প্রজাপতির মধ্য থেকে ৪০ প্রজাতির প্রজাপতির একটি অ্যালবাম তৈরি করেছেন তিনি।

লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সবুজ, সাদা, কালো, কমলা, ডোরাকাটা, কলাপাতা প্রভৃতি নানা রঙের চোখ জুড়ানো এসব প্রজাপতি ঘুরে বেড়ায় ক্যাম্পাস জুড়ে।

ড.মনোয়ার জানান, জাপান ও চীনা বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গবেষণা করে দেখেছেন, সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের সোলারের প্লেটে প্রজাপতির পাখা বায়োথটেপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করলে সোলারের প্লেট থেকে ১০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যদিও এ প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল, তবে লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।

পাশাপাশি ইকো টুরিজ্যম কিংবা জীব বৈচিত্র রায় প্রজাপতির রয়েছে নানা ভূমিকা।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৭ ঘণ্টা, মার্চ ১, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa