ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

চমৎকার শুরু বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে

জেসমিন পাপড়ি, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২১ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০১৪
চমৎকার শুরু বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দল নয়, ভারতের নতুন সরকারের সম্পর্ক হবে এদেশের জনগণের সঙ্গে, সরকারের সঙ্গে।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকাকে এমন বার্তা দিয়েই দেশে ফিরেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।



‘বন্ধুত্বের বার্তা’ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার সরকার সম্পর্কের নতুন ভিত্তি রচনা করতে প্রস্তুত। মোদী সরকারের সঙ্গে এ বন্ধুত্বের চমৎকার শুরু এই সফর।


শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন সুষমা। এর আগে তিনি সকাল থেকেই মন্দির পরিদর্শনসহ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক সারেন।

একইসঙ্গে ঢাকা সফরকে ‘চমৎকার সূচনা’ আখ্যায়িত করে সুষমার সফরসঙ্গী ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত। তবে বাংলাদেশের জনগণকেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ভারতের নতুন সরকার পূর্ণ মেয়াদে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার কাজ করে সরকারের সঙ্গে। ভারতের সরকার বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো এ দেশের জনগণকেই সমাধান করতে হবে।

এদিকে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আবারও সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি এবং ভারতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালের এ সংক্রান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা চালাবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়ে গেছেন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

পাশাপাশি সুষমা স্বরাজ তার ব্যক্তিগত প্রথম সফরে ঢাকা এসে প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে বিজেপি নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত এক বক্তৃতায় গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা ও অনুসৃত আদর্শ সানন্দে বিনিময় করতে চেয়েছেন।

এদিকে এ সফরের মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় এসেছে। দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তারাও বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং বৈশ্বিক রাজনীতির বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমদ।  

তার মতে, সুষমার সফরে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়ে এ অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ অঞ্চলের উন্নয়ন এজেন্ডার সঙ্গে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সম্পৃক্ত হোক সে আহবান তিনি জানিয়েছেন।

“অন্যটি হলো- তার সরকার বিশেষ কোনো দল নয়, সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় এই বার্তাও দিয়েছেন। ”

সফরের শেষ দিন বিএনপি চেয়ারপর্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের একান্ত বৈঠক প্রমাণ করে, তারা (ভারত) কোনো দলকেই ছোট করে দেখছে না, অভিমত দেন রাজনীতির বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমদ।  

গত মে মাসে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের ক্ষমতায় আসে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার শপথ অনুষ্ঠানে রীতি ভেঙ্গে সার্কভূক্ত দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘প্রতিবেশীর সঙ্গে সহযোগিতার’ বার্তা দেন।

তারপরই মোদী প্রথম বিদেশ সফরে যান প্রতিবেশী ভুটানে। সেই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এর পরই বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বুধবার রাতে তিনদিনের ঢাকা সফরে আসলেন।

বৃহস্পতিবার সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গেও৷

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা ছাড়ার আগে সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা উপদেষ্টা ড. মশিউর আলম এবং ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়াও একইস্থানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তার আগে সুষমা প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাক্ষাৎ করেন।

এ সকল বৈঠকের সার্বিক বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন আরো বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা ভারতের সঙ্গে আরও বন্ধুত্ব, ব্যাপক সহযোগিতা ও যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী। এই উপলব্ধি নিয়ে আমরা ফিরে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা, রওশন এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর এ উপলব্ধি হয়েছে।

সুষমা স্বরাজ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের নিমন্ত্রণ জানিয়েছে।

চিঠিতেও বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের আহ্বান জানিয়ে মোদী লিখেছেন, “পরস্পরের অগ্রাধিকার, প্রেক্ষাপট, উদ্বেগগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারা এবং আগামী দিনে সম্পর্ককে আরো উঁচুতে নিয়ে যেতে আমাদের প্রায়ই দেখা হওয়া উচিত। ”

“আমাদের কাছে বাংলাদেশ নিছক এক প্রতিবেশী নয়, বরং একটি রাষ্ট্র যার সঙ্গে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সভ্যতা অভিন্ন এবং জনগণের মধ্যে যোগসূত্র অনেক পুরনো। ”

একইসুরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন বলেছেন, এ সফর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নতুন সরকারের সম্পর্কের একটি চমৎকার সূচনা। এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।

কূটনীতি বিশ্লেষকরাও এ সফরকে চমৎকার শুরুই বলতে চান।

ড. ইমতিয়াজ এ বিষয়ে বলেন, মোদী সরকারের বয়স মাত্র একমাস। এই একমাসেই বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। শুরুটা তাই চমৎকারই বলা যায়। এখন দেখতে হবে এ সফরের ফলোআপ দু’দেশ কিভাবে করছে।

দুদেশের জন্য প্রার্থনায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সুষমা

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শেষ দিনটি শুরু করেন সুষমা স্বরাজ। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রার্থনা করেন তিনি।
এ সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাটমন্দিরের দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ক আরও জোরালো হবে। দুই দেশের সম্পর্কে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। খোলা মন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।

শেখ রেহানা ও পুতুলে সঙ্গে সাক্ষাত

ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ফেরার পর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল।

প্রায় এক ঘণ্টা সময় তারা সেখানে অবস্থান করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa