bangla news

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও বেপরোয়া ছিনতাইকারীরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০২-১৬ ৪:৫৮:৪৪ এএম

বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে রাজধানী জুড়ে বাড়তি নিরাপত্তার নানা আয়োজন সত্ত্বেও ছিনতাইকারীদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কোনোভাবেই।

ঢাকা: বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে রাজধানী জুড়ে বাড়তি নিরাপত্তার নানা আয়োজন সত্ত্বেও ছিনতাইকারীদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কোনোভাবেই।

গত দেড় মাসে শুধু রাজধানীতেই ছোট-বড় অর্ধ শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। ছিনতাইকারীরা লুটে নিয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

ইদানিং ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। চালককে কুপিয়ে বা গুলি করে মোটর সাইকেল ছিনতাই হচ্ছে ব্যাপকভাবে। মাত্র তিন সপ্তাহে একই স্টাইলে ১০ টিরও বেশি মোটর সাইকেল ছিনতাই হওয়ায় মোটর সাইকেল চালক ও আরোহিদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে রাজধানী জুড়ে নিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু এরমধ্যেই বুধবার সকালে ছিনতাইকারীরা আরও দু’জনকে খুন করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

বেপরোয়া ছিনতাইকারীরা ভোর সাড়ে চারটায় যাত্রাবাড়ী থানার জনপদ মোড় সংলগ্ন ঢালে মধু বেপারী (২৫) নামে এক রড মিস্ত্রিকে ছুরিকাঘাতে খুন করে। অপর ঘটনাটি ঘটেছে গেণ্ডারিয়া থানা এলাকায়। সেখানে সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে এস. কে রোডে প্রায় একইভাবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী চুন্নু বেপারী (৫০)।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাড্ডায় দিনেদুপুরে ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হন সাঁতারকুল রাইস এজেন্সির ম্যানেজার শামসুল হক। তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ১৬ লাখ টাকা। এ সময় জনতার হাতে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্য ধরা পড়লেও বাকিরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

একই দিন রাজধানীর গেণ্ডারিয়াতেও আবদুর রউফ নামে এক ব্যবসায়িকে গুলি করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি এলাকায় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রাত তিন টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ ব্রিজের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে তার টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

এর আগে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজধানীর পল্লবী, পল্টন থানার শাহজাহানপুর, মতিঝিলের গোপিবাগ, শাহবাগ থানার বুয়েট ক্যাম্পাস মসজিদ এলাকা, বঙ্গবাজার মোড়ে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে, উত্তরায় ও রামপুরা এলাকা থেকে অন্তত ছয়টি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

গত জানুয়ারি মাসের শেষ ১৫ দিনে ঘটে আরও চারটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চালককে গুলি করে বা কুপিয়ে মোটরসাইকেলগুলো ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে।

গত ২৯ জানুয়ারি রামপুরা এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে এক শেয়ার ব্যবসায়ীকে হত্যা করে। ৩ ফেব্রুয়ারি উত্তরার রাজলী মার্কেটের সামনে একটি পোশাক কারখানার জেনারেল ম্যানেজার আইয়ুব আলী ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হন। তিন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

২ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীরা রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় সতীশ সরকার লেনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫) ও ওমর ফারুক (৩২) গুলিবিদ্ধ হন। চাঁদার দাবিতে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এক মাসের ব্যবধানে কোতোয়ালী থানার তাঁতীবাজার এলাকায় দু’জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ি, অন্যজন স্বর্ণের কারিগর। ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর কাওরানবাজার মাছের আড়ৎ সংলগ্ন ভবনের চারতলার কক্ষে এক যুবককে জবাই করে লাশ চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে অজ্ঞান করে বা ট্রেন থেকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ব্যাপকহারে বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২ জানুয়ারি রাত পৌনে ১১ টায় বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলামের গলায় গামছা পেঁচিয়ে তেজগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তার ল্যাপটপ, দু’টি মোবাইল ফোন সেট ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

পরবর্তীতে রেলওয়ে পুলিশ টোকাইদের সহযোগিতায় ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা বস রিপন ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টায় মগবাজার রেলক্রসিং এলাকায় এক যুবককে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

খিলগাঁও এলাকায় ৫ ফেব্রুয়ারি গভীররাতে এক ব্যবসায়িকে গুলি করে মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান (৩২) পান্থপথ এলাকায় স্টুডিও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ছিনতাই, খুন-খারাবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে গাড়ি চুরির দৌরাত্ম্য। এখন সংঘবদ্ধ গাড়ি চোরেরা নিরবে-নিভৃতে গাড়ি চুরি করেই ক্ষান্ত নয়, চালককে হত্যা বা আহত করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটাচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাস থেকে চলতি মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন মডেলের পাঁচ শতাধিক গাড়ি চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ জন চালককে হত্যা করারও ঘটনা ঘটে।

ডিএমপির ডিবি সদস্যদের বিভিন্ন অভিযানে ছিনতাইকৃত গাড়িসহ আটক দুর্বৃত্তরা জানায়, গুলশান, উত্তরা, বারিধারা ও মতিঝিলে তাদের শক্তিশালী চক্র রয়েছে। ওই চক্রের বেশিরভাগ সদস্য চরমপন্থী ও সর্বহারা। তাদের টার্গেট দামি প্রাইভেটকার ও নতুন মোটরসাইকেল।

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
ধারাবাহিকভাবে ছিনতাই-রাহাজানি-খুন খারাবির ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘বেশিরভাগ অপরাধের ঘটনায় জড়িতরা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে।’

তিনি বাংলানিউজকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গভীররাতে আচমকা গুলি করে বা কুপিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে সন্দেহভাজন জড়িতদের তালিকা তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই তারা ধরা পড়বে।

এক প্রশ্নর জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর নিরাপত্তায় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশি টহল প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্যও সংশ্লিষ্ট জোনগুলোর পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2011-02-16 04:58:44