ঢাকা, রবিবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

বাংলানিউজে সংবাদের পর

যমুনা ব্রিজ এখন বঙ্গবন্ধু সেতু!

ইসমাইল হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৩
যমুনা ব্রিজ এখন বঙ্গবন্ধু সেতু!

ঢাকা: অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি নাম ফিরে পেল দেশের বৃহত্তম স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু। সার্চ ইঞ্জিন গুগল ম্যাপে এক দিন আগেও বঙ্গবন্ধু সেতুকে যমুনা ব্রিজ নামেই চিনতো গোটা বিশ্ব।



সোমবার সন্ধ্যায় গুগল ম্যাপ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ইমেজ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশ হয় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু না যমুনা ব্রিজ!’ শিরোনামে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ‘যমুনা সেতু’ নামের পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু’ সেতু নামটিও যোগ করে গুগল।

সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের মধ্যে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু সেতুটি চালু হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা তার বিগত মেয়াদকালে তার বাবা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সেতুটি উদ্বোধন করেছিলেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনা বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। অথচ তিনি ক্ষমতায় থাকলেও গুগল ম্যাপে সেতুর নামটি ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ না হয়ে ‘যমুনা সেতু’ হিসেবে উল্লিখিত হচ্ছিল। এ নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অনেকেই  সমালোচনা করে আসছিলেন। কিন্তু তাতেও গুগলেরর টনক নড়েনি এতোদিন। অবশেষে বাংলানিউজ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবং চটজলদি ভুলটি সংশোধন করে গুগল।

এই সংবাদ প্রকাশের পর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগ তৎপর হয়। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেতু বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

সোমবারই এ ব্যাপারে সেতু সচিব, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাংলানিউজ। সে সময় জানান, তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

মঙ্গলবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে গুগল ম্যাপে (https://maps.google.com/) আবারও বঙ্গবন্ধু সেতুর ইমেজ সার্চ দিয়ে সরকারি নামের সংযোজন দেখা যায়।

এর আগে মঙ্গলবার সেতু বিভাগের সচিব খণ্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে।

এরপরই নামের পরিবর্তন আসে পৃথিবীর ১১তম এবং বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই সেতুটির।

আগের ইমেজে দু’বার ‘Jamuna Bridge’ ও একবার ‘যমুনা সেতু’ লেখা থাকলেও সর্বশেষ ইমেজে দু’বার ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’, একবার ‘Jamuna Bridge’ ও একবার ‘যমুনা সেতু’ লেখা যুক্ত হয়েছে।     

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে গুগল সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

‘বঙ্গবন্ধু সেতু’র আসল নামে ফেরা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশে নিযুক্ত গুগলের কান্ট্রি কনসালট্যান্ট মনিরুল কবীর বাংলানিউজকে বলেন, ম্যাপ মেকাররা কোন স্থান বা স্থাপনার কমিউনিটি নাম ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশে দু’শ’ এরও অধিক ম্যাপ মেকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা হয়তো নাম সংযোজন করেছেন।

চার দশমিক আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১৮ দশমিক পাঁচ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর, উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নের (http://www.tangail.gov.bd/node/210511) তথ্যে জানা যায়, অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে বেতার-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণদানকালে নির্বাচনী ওয়াদা হিসেবে যমুনা সেতু নির্মাণের কথা উত্থাপন করেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭২ সালে যমুনা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় এবং ১৯৭২-৭৩ সালের বাজেটে এজন্য বরাদ্দ রাখে।

সময়ের পালা বদলের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে বহু প্রতীক্ষিত স্থাপনাটি নির্মিত হলে ১৯৯৮ সালে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৩/আপডেট ১৮২০ ঘণ্টা
এমআইএইচ/জেডএম/জেএম/আরকে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa