ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

জাতীয়

সাকার আটকাদেশ চেয়ে আবেদন, শুনানি ১৯ ডিসেম্বর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১০
সাকার আটকাদেশ চেয়ে আবেদন, শুনানি ১৯ ডিসেম্বর

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা। আবেদন গ্রহণ করে ১৯ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ দিয়েছেন আদালত।



বুধবার সকাল ১১টায় ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলামের মাধ্যমে এ আবেদন জমা দেন তারা। পরে তা গ্রহণ করে আটকাদেশের শুনানির তারিখ ধার্য করেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর প্রশাসন জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার হোসেন, মোখলেসুর রহমান, আলতাফ উদ্দিন আহমেদ ও আবদুর রহমান হাওলাদার আবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন।  
 
এর আগে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা তার এ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউটরদের কাছে জমা দেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি তদন্ত করেন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নূরুল ইসলামসহ আরও দুই তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক খান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনে উপস্থিত হন।

সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় সেখানে।

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে একাধিক বাড়িতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে আমরা যে তথ্য প্রমাণ পেয়েছি, তার ভিত্তিতে আমরা তাকে আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করতে আবেদন জানিয়েছি। যাতে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আটক রাখা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে গিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আমরা যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে যারা সাক্ষ্য দিয়েছে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমনকি আমাদের তদন্তকাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় তাকে বাইরে রাখলে আমাদের বিচারকাজ ব্যাহত হতে পারে। চট্টগ্রামে আমরা শ্রী-কুণ্ডেশ্বরী ওষুধালয়, জগৎমল্ল পাড়া, ঊনসত্তুরের পাড়া প্রভৃতি জায়গায় গিয়েছি। এসবই হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা।

শ্রী-কুণ্ডেশ্বরী  ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নতুন চন্দ্র সিংহকে,  জগৎমল্ল পাড়ায় ৩৮ জনকে এবং ঊনসত্তুরের পাড়ায় ৬৯ জনের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ গ্রহণ করে নেতৃত্ব দিয়েছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

চট্টগ্রামেও তার বর্তমান বাসভবন গুডস্ হিলে, পাহাড়তলির ডালিম হোটেলে নিয়ে তিনি অসংখ্য লোককে নির্যাতন করতেন, এদুটি ছিল তার নির্যাতনকেন্দ্র। এসবের কারণে তাকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করেছি।

এদিকে মঙ্গলবার রাতেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর খোঁজে তার ধানমন্ডির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামের গুডস হিলের বাড়িতে রয়েছেন। তবে সেখানে খবর নিয়ে জানা যায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওই বাড়িতে নেই।

চট্টগ্রাম পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মঙ্গলবার রাতে বাংলানিউজকে জানান, সালাউদ্দিন কাদের চট্টগ্রামে নয় ঢাকাতেই রয়েছেন। তিনি আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।  

বাংলাদেশ সময় ১২০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa