bangla news
চৈতী আত্মহত্যা

ঘটনা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় প্রভাবশালীরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১২-১৪ ২:২৭:৫৯ পিএম

জেলার কালকিনিতে বখাটের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে নিজের জীবন দিয়ে নিজের পরিবারকেই বিপাকে ফেলে দিয়েছেন চৈতি। আত্মহত্যার আগে ডায়েরিতে বখাটের নির্যাতনের কথা লিখে গেলেও এখন মামলা করারই সাহস পাচ্ছে না তার পরিবার।

মাদারীপুর: জেলার কালকিনিতে বখাটের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে নিজের জীবন দিয়ে নিজের পরিবারকেই বিপাকে ফেলে দিয়েছেন চৈতি। আত্মহত্যার আগে ডায়েরিতে বখাটের নির্যাতনের কথা লিখে গেলেও এখন মামলা করারই সাহস পাচ্ছে না তার পরিবার।

গত রোববার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন শিকদারের মেয়ে ও সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী চৈতি আক্তারের (১৭) লাশ শোবার ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো কালকিনি থানা পুলিশ উদ্ধার করে।
   
মঙ্গলবার দুপুরে চৈতির বাড়ি, বখাটের সাগরের বাড়ি, কলেজ ও থানায় গিয়ে দেখা যায়, বখাটে সাগরের পরে লোকজন চৈতির পরিবারকে সান্ত্বনার নামে বিভিন্নভাবে শাসানোর চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গা ঢাকা দেয়।

বখাটের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা কেউ এটিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, কেউ গ্রামের দ্বন্দ্ব, কেউ একপেশে ভালবাসা আবার কেউ ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

কালকিনি থানায় গিয়ে দেখা যায় চৈতির বাবাকে ঘিরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মামলা না করার জন্য চাপ দিচ্ছে। একপর্যায়ে থানার পাশেই একটি নির্জন স্থানে চৈতির বাবা শাহাদাত হোসেন মামলা না করার জন্য প্রভাবশালীদের চাপ রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান।

এরমধ্যে ওই প্রভাবশালীরা সেখানে চলে আসলে চৈতির বাবা তার মৃত মেয়ের বিরুদ্ধে উল্টো কথা বলতে শুরু করেন। এসময় তার হাত পা কাঁপছিল। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ওই প্রভাবশালীরাই একপর্যায়ে মামলা করাতে রাজী হয়।

চৈতির বাবা শাহাদাত হোসেন তার এই কথা পত্রিকায় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার মেয়ে মারা গেছে। আমাকে তো পরিবার নিয়ে সমাজে বাঁচতে হবে।

তবে যার কারণে চৈতিকে প্রাণ দিতে হয়েছে সেই বখাটে সাগরের বিচার চেয়েছেন জমজ বোন চাঁদনী আক্তার। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, আমার বোন কোনো উপায় না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ওর বিচার চাই।
 
মেয়ের শোকে শয্যাশায়ী মা হোসেনে আরা বলেন, ‘ও (বখাটে) সুযোগ পাইলেই ঘরে ঢুইকা মাইয়াডারে শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করতো। মাইয়ারে বাঁচাইতে আমি ওর পাও ধরছিলাম।’
    
চৈতির সহপাঠী হেনা, কুসুমসহ অনেকেই বাস্পরুদ্ধ কন্ঠে জানায়, চৈতি ও চাঁদনী যমজ বোন। ওরা একই রংয়ের জাম,কাপড় পড়ে আসতো। ওর ব্যবহার ছিল চমৎকার। আমরা ওই বখাটের দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই।

সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের অধ্য মো. খালেকুজ্জামান বলেন, বখাটে সাগরের বখাটেপানার কারণেই চৈতি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এর প্রবণতা আরও বাড়বে।
   
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা নিশ্চিত যে বখাটে সাগরের প্ররোচনাতেই চৈতি আত্মহত্যা করেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তবে চৈতির পরিবার মামলা করতে চাইছে না বলে ওসি দাবি করলেও মামলা দায়ের করায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। এসময় তার সামনেই ওই প্রভাবশালীরা বসে ছিল।

বাংলাদেশ সময়: ০০৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-12-14 14:27:59