bangla news

মোবাইল ফোনে ফাঁদ পেতে স্বামীর খুনিকে ধরলেন পারুল

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১২-১৪ ৯:২০:৫৩ এএম

নিখোঁজ হওয়া স্বামীর মোবাইল ফোন নম্বরে কল করে করে খুনিকে খুঁজে বের করলেন পারুল আক্তার নামে মাটিরাঙ্গা উপজেলার এক গৃহবধূ। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া স্বামীর লাশের কঙ্কালও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

খাগড়াছড়ি: নিখোঁজ হওয়া স্বামীর মোবাইল ফোন নম্বরে কল করে করে খুনিকে খুঁজে বের করলেন পারুল আক্তার নামে মাটিরাঙ্গা উপজেলার এক গৃহবধূ। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া স্বামীর লাশের কঙ্কালও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

খুনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারুলের স্বামী মো. রুবেলের (২৫) হাত-পা বাঁধা লাশ গভীর অরণ্যে ছড়ার পাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

রুবেলের পেশা ছিল মোটরসাইকেলে যাত্রী আনা-নেওয়া করা। গত ৩০ মে তিনি মাটিরাঙ্গা থেকে নিখোঁজ হন। রুবেল নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন তার পিতা মো. জাহাঙ্গীর মাটিরাঙ্গা থানায় জিডি করেন।

এদিকে, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নম্বরে মাঝে মাঝে ফোন করতেন পারুল আক্তার। কোনো কোনো সময় মোবাইল সংযোগ পেলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো উত্তর আসতো না। তারপরও পারুল আশা না ছেড়ে প্রায়ই ওই মোবাইল নম্বরে কল করতেন।

এক পর্যায়ে পারুল কয়েক দিন বিরতি দিয়ে কৌশল পরিবর্তন করে অন্য একটি নম্বর থেকে তার স্বামীর মোবাইলে ফোন করে অপর প্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদ পাতেন। আর এ ফাঁদেই আটকে যায় পারুলের স্বামীর খুনি।

শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় ১০ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদের সময় পারুল গাজীপুরের টঙ্গীতে গিয়ে টঙ্গী প্লাজা মার্কেটে ‘প্রেমিকের’ সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

স্বামী হারানো পারুল সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই তার স্বামী নিখোঁজ হওয়া ও নিখোঁজ-পরবর্তী ঘটনা সবিস্তারে জানান টঙ্গী থানাকে।

অবশেষে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর পারুলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করে টঙ্গী পুলিশ।

পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তি নিজেকে মো. জনি (২০) নামে পরিচয় দেয়। পরদিন টঙ্গী থানা পুলিশ জনিকে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, মাটিরাঙ্গা পুলিশ ১২ ডিসেম্বর জনিকে খাগড়াছড়ি বিচারিক আদালতে হাজির করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চায়। কিন্তু আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জনি তার অপর দুই সহযোগী ওবায়দুল ও আসলাম মিলে রুবেলকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানায় পুলিশ।

জনির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল সোমবার পুলিশ মাটিরাঙ্গা উপজেলার রসুলপুর এলাকার দুর্গম পাহাড়ি ছড়ার পাড় থেকে রুবেলের গলিত লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ পলাতক অপর দুই খুনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-12-14 09:20:53