bangla news

সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা কী কী নিয়ে গেছেন, রোববার তা প্রকাশ করা হবে - সৈয়দ আশরাফ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১২-১১ ৯:১৯:২৬ এএম

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়িতে ৪২টি এয়ার কন্ডিশনার পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়িতে ৪২টি এয়ার কন্ডিশনার পাওয়া গেছে। একটি বাড়িতে কতটি কক্ষ থাকলে এতো এয়ার কন্ডিশনার পাওয়া যায়? ছেড়ে যাবার আগে খালেদা জিয়া বাড়িটি থেকে কী কী মালামাল নিয়ে গেছেন, তা আগামীকাল রোববার জাতির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ময়মনসিংহ শহরের ছোট বাজার এলাকায় ‘ময়মনসিংহ মুক্ত ও বিজয় উপলক্ষে মুক্তমঞ্চের আলোচনা সভা’য় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নাজিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও ময়মনসিংহ-৪-সদর আসনের এমপি প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। এতে আরো বক্তব্য রাখেন মজিবুর রহমান মিল্কি, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও চেম্বার সভাপতি ইকরামুল হক টিটু, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মিল্কি টজু প্রমুখ।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি’র সামনে এখন ৩টি ইস্যু। একটি খালেদা জিয়ার বাড়ি ফেরত পাওয়া, যেটি তিনি এতদিন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। অপর দু’টি তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও টাকা পাচারের মামলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারেক-কোকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও টাকা পাচারের মামলা করেছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।’

ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়ি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাড়ি ফেরত পেতে খালেদা জিয়া হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও আদালতই তাদের পক্ষে রায় দেননি। তার অবৈধভাবে দখল করা এ বাড়ি সেনাবাহিনীর।  সেনাবাহিনীর বাড়ি সেনাবাহিনী ফেরত পেয়েছে।’

সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দুর্ধর্ষ রাজাকার ছিলেন গফরগাঁওয়ের মাওলানা মহিউদ্দিন। শেখ হাসিনাকে  টুঙ্গিপাড়ায় বোমা মেরে হত্যাচেষ্টার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানকে রক্ষার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এমন কোনও চেষ্টা নেই যা মাওলানা মহিউদ্দিন করেননি। খালেদা জিয়ার কথামতো এবার ২৬ ডিসেম্বর হরতাল ডেকেছে রাজাকার মহিউদ্দিনের ওলামা পরিষদ। কুখ্যাত এ রাজাকারের ডাকা হরতালে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বিএনপি প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘রাজাকারের দল জামায়াতে কোনও মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সে লক্ষ্যেই এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আজ হায়েনারাও বসে নেই। তারাও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যারা ইংল্যান্ডে হিটলারের পক্ষে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছে, ইংল্যান্ডে তাদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হয়নি। ফ্যাসিস্টরা যারা ইতালিতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পরাজিত হয়েছে আজ পর্যন্ত ইতালিতে তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হয়নি। অথচ আমাদের দেশে ’৭১-এর পরাজিত শক্তি রাজনীতি করে যাচ্ছে। কেউ কিছু বলে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিএনপি মহসাচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যকে  ‘রুচিহীন’ বলে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর টিআই নাম্বার এখনো ইনকাম ট্যাক্স অফিসে রক্ষিত আছে। শেখ হাসিনার স্বামী এ দেশের শীর্ষ শিক্ষক ছিলেন। বিদেশে তিনি বহু বছর শিক্ষকতা করেছেন। সুধাসদনের বাড়িটি তৈরি করতে তার ১৫ বছর সময় লেগেছে। বঙ্গবন্ধুর গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় দেড়’শ বছরের পুরাতন দালান রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পিতা তাকে কলকাতায় পড়াশুনা করিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তো খোন্দকার দেলোয়ারের মতো গামছা পড়ে স্কুলে যাননি।’
 
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘দেলোয়ারের সাথে আমি দু’বার সংসদ সদস্য ছিলাম। তার সাথে আমি পার্লামেন্ট থেকে বিভিন্ন বার বিদেশে সফরে গিয়েছি। ওনি নিজেকে একজন মস্ত বড় প্রাক্তন কমিউনিস্ট দাবি করেন। তার মুখে এসব কথা মানায় না। হয়তো খালেদা জিয়া যা লিখে দিয়েছেন, দেলোয়ার মুখস্ত করে তা বলছেন।’  

বাংলাদেশ সময়: ২০০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-12-11 09:19:26