bangla news

পা হারানো শরীফের ভবিষ্যৎ জানা নেই

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১২-০৯ ৮:০৩:৪৫ এএম

শুনলাম উল্টা দিক দিয়া ট্রেন আইতাছে। ফাল দিয়া উইঠা বাইর হওয়া তো দূরে থাউক, কিছু বুইঝা ওঠার আগেই বিকট শব্দে আমাগো ট্রেন মহানগরের উপরে উইঠা পড়ল। এরপর আর কিছু জানি না।’

ঢাকা: ‘শুনলাম উল্টা দিক দিয়া ট্রেন আইতাছে। ফাল দিয়া উইঠা বাইর হওয়া তো দূরে থাউক, কিছু বুইঝা ওঠার আগেই বিকট শব্দে আমাগো ট্রেন মহানগরের উপরে উইঠা পড়ল। এরপর আর কিছু জানি না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাবলেশহীনভাবে কথাগুলো বলছিল রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে থাকা ১৬ বছরের কিশোর শরীফ। বুধবার নরসিংদীর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দু’টি পা-ই হারিয়েছে ফেরিওয়ালা শরীফ।

কিছুণ থেমে আবার বলা শুরু করে সে, ‘ জ্ঞান ফিরলে হাত দিয়া উঠার চেষ্টা করি। কিন্তু আর উঠতে পারি না। দেহি প্যান্ট দিয়া রক্ত পড়তাছে।  দুইডা লুক আমারে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়া যায়। আমার পাও দুইডা পইড়া থাকে ট্রেনেই।’

ইঞ্জিনের পাশের বগিতেই বসেছিল শরীফ। ব্যবসার কাজে চট্টলা পরিবহনে করে ঢাকায় আসছিল।

বাবা আব্দুল আওয়াল একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা পায়ের বাকি অংশটুকু ধরে আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘এই পোলাই আমার একমাত্র সম্পদ ছিল।’

তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আওয়ালের আরেক ছেলে রিকশা চালান। বাকি ছেলে-মেয়েরা ছোট বলে জানান তিনি।

আওয়াল বাংলানিউজকে বলেন, ‘নরসসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা নিয়ে আসার মাইক্রো ভাড়াও দিবার পারি নাই। মাইক্রোর ড্রাইভার আমাগো অবস্থা দেইখা আর ট্যাকা নেয় নাই।’

বাবার মতো শরীফ জানেন না তার ভবিষ্যৎ কী হবে?

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪১ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-12-09 08:03:45