[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

অহিংসা ছাড়া শান্তির পথ নেই: শুদ্ধানন্দ মহাথের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৩-০২-২৪ ৯:১৭:৪১ এএম

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেছেন, দেশে বর্তমানে যতো অশান্তি-হানাহানি-সংঘাত, তার মূলে সাম্প্রদায়িকতা আর কুপমণ্ডুকতা। আর এ থেকে পরিত্রাণের পথ অহিংসা, পারস্পারিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি গড়ে তোলা।

ঢাকা: বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেছেন, দেশে বর্তমানে যতো অশান্তি-হানাহানি-সংঘাত, তার মূলে সাম্প্রদায়িকতা আর কুপমণ্ডুকতা। আর এ থেকে পরিত্রাণের পথ অহিংসা, পারস্পারিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি গড়ে তোলা।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন ।

শুদ্ধানন্দ বলেন,‘‘বর্তমানে হানাহানি-সংঘাত আর জীঘাংসাবৃত্তির মধ্য দিয়ে যে ভাবে দেশ চলছে, এভাবে চলতে পারে না। পৃথিবীতে সব ধর্মই শান্তির পথ নির্দেশ করে। কোন ধর্মই উন্মাদনা সৃষ্টিকে সমর্থন করে না। যতো অশান্তি হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে সাম্প্রদায়িকতা আর কূপমণ্ডুকতা। অহিংসা, পরম ভাতৃত্ব ও সৌহার্দবোধ আর অসাম্প্রদায়িকতাই হচ্ছে সব হানাহানি থেকে পরিত্রাণের পথ।’’

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপট ও বর্তমানের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়েও কথা বলেছেন দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এ শীর্ষ নেতা।

শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেন,‘‘ধর্ম ও দেশপ্রেম একাকার। দেশপ্রেম ধর্মেরই অংশ। সব ধর্মেই এটি স্বীকৃত। তাই যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের মাঝে কোনো ধর্মও থাকতে পারে না। আর যারা দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ৭১-এ অমানবিকভাবে হত্যা করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার হওয়াও অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত। ’’

শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকেও দেশপ্রেমের নতুন স্ফূরণ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িকতা বাংলাদেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেন, ‘‘আমাদের ৫ বছর পরে স্বাধীনতা লাভ করেছে চীন। তাদের অবস্থান আজ কোথায়? বিশ্বে পিছিয়ে থাকার রাষ্ট্রগুলোর মূলে রয়েছে সেই সবদেশগুলোর অতি সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদী মানসিকতা। শান্তিময় ও সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতেই হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অহিংসার পথে বিলম্বে হলেও শান্তি অনিবার্য এবং মহাকাল তার সাক্ষী। ব্রিটিশ আমল থেকে অধ্যাবধি দেখা বিশ্বসভ্যতার কাছ থেকে এ শিক্ষাই পেয়েছি। যেই মহাত্মা গান্ধীকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের হাতে চরম নিগৃহীত-নির্যাতিত হতে হয়েছে, শতবর্ষ পরে তিনি আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত-পরম পূজনীয়-অনুকরণীয়। নেলসন ম্যান্ডেলাকে অন্ধকারের রাখা সম্ভব হয়নি। এসবই হয়েছে অহিংসার পথে।’’

বাংলাদেশ সময়: ২০০৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৩
সম্পাদনা: আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট/জেডএম  

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14