ঢাকা, রবিবার, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ২৪ মার্চ ২০১৯
bangla news

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্মিত জাবির ‘সংশপ্তক’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-১২-১৫ ৯:০৪:১৭ এএম

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল বাঙালি জাতি।

জাবি: মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল বাঙালি জাতি। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম হয়েছে ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।

বাঙালি জাতি তার এ অর্জনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রতিনিয়ত। ১৯৭১ সালের এ মহান বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে নানা স্মৃতিস্তম্ভ। ঠিক তেমনি ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও (জাবি) নির্মাণ করা হয়েছে স্মারক ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে এ ভাস্কর্যটি। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও লড়ে যান যে অকুতোভয় বীর সেই ‘সংশপ্তক’। মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয়ী বীরদের স্মরণে এটি নির্মাণ করা হয়।

এ ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাচ্ছেন দেশমাতৃকার বীর সন্তান। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা যাদের স্বপ্ন, শত্রুর বুলেটের সামনেও জীবন তাদের কাছে তুচ্ছ।

১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। ভাস্কর্যটির শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন জাবির উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহম্মেদ। শিল্পী ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে এতে দৃশ্যমান করা হয়েছে।

‘সংশপ্তক’ হলো ধ্রুপদী যোদ্ধাদের নাম। মরণপণ যুদ্ধে অপরাজিত রণরাজ। সংশপ্তকের গায়ে প্রতিফলিত হয়েছে ধ্রুপদী যোদ্ধাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চেতনাকে দৃশ্যমান করার লক্ষ্যেই সংশপ্তক স্থাপন করা হয়।

মূলভূমি থেকে ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট। মূল ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জ ধাতুতে তৈরি। এছাড়া এটি নির্মাণে লাল সিরামিক ইট ব্যবহার করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম স্বচক্ষে দেখেনি মুক্তিযুদ্ধ। তবে তাদের স্মৃতির পাতায় স্বর্ণাক্ষরে স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি। দেশের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের অধিকার সংবলিত যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে এটি। প্রতি মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেয় ’৭১-এর যুদ্ধ জয়ের ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সারা বাংলাদেশে অনেক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। তারই আলোকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘সংশপ্তক’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। এই সংশপ্তক আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করে দেয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। যখনই এ ভাস্কর্যটি দেখি তখনই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। শ্রদ্ধায় মাথা অবনত করি তাদের প্রতি যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।”

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর/আরআই

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14