ঢাকা, রবিবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

বিমান ও বাপা দু’পক্ষই অনমনীয়: ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-২৫ ৭:২২:১৫ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এখন মুখোমুখি। দু’পক্ষের কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।  বিমানের বৈমানিকদের আন্দোলন শিগগির বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণও নেই।

ঢাকা:বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এখন মুখোমুখি। দু’পক্ষের কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।  বিমানের বৈমানিকদের আন্দোলনশিগগির বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণও নেই।এ অবস্থায়  বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিমানের শিডিউল। প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শতশত যাত্রী।

বৈমানিকেরা বিষয়টি সুরাহা করতে সোমবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ২১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে বৈমানিকদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬২ বছর করার অফিস-আদেশ বাতিল, শিগগিরই সব ওয়েট লিজ বাতিল করে সেগুলোকে ড্রাই লিজে পরিণত করা, বিমানের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে ইনক্রিমেন্ট বন্ধের ‘নীল নকশা’ বন্ধ করা, চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে  পুনর্বহাল ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের মান উন্নত করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।

নিয়মানুযায়ী বিমানের বৈমানিককে মাসে ৭০ ঘণ্টা ফ্লাই করতে হয়। আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা বাপার সঙ্গে চুক্তির বাইরে বাড়তি দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দেয়। ২২ অক্টোবর থেকে এ কর্মসূচি শুরুর পরপরই বিমানের শিডিউল বিপর্যয় শুরু হয়।

বিমান কর্তৃপক্ষ বৈমানিকদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬২ বছর করার অফিস আদেশ বাতিলের দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী চার বৈমানিককে শোকজ করে। এটা দু’পক্ষের অনমনীয় আচরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলমান আন্দোলনে গত তিন দিনে বিমানের দুটি ফাইট বাতিলৈ হয়। আর বিলম্বে ছাড়ে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট। এ অবস্থায় রোববার রাতে বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনে আন্দোলনরত বৈমানিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয়সহ বাপার অন্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলেও প্রধান দাবি আমলেই নেওয়া হয়নি।

আর শোকজ করার পর আরও ক্ষিপ্ত হয়েছেন বৈমানিকরা। বিমান সূত্রে জানা গেছে, রোববার ক্যাপ্টেন মাকসুদের একটি ফ্লাইট ছিল। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর তিনি জানিয়ে দেন এ অবস্থায় তার পক্ষে ফাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তার বক্তব্য ’৯৬ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলে তাকে ফ্লাইটে পাঠালে তার পক্ষে শোকজের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে দু’পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকার পরেও বৈমানিকেরা এভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন না এবং এ নিয়ে কথা বলা আদালত অবমাননার শামিল।

অন্যদিকে, বাপার সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন মাহতাব বাসিত বাংলানিউজকে বলেন, আদালত অবমাননার মতো কিছুই করিনি আমরা। আর আদালত অবমাননা হলে তা দেখার দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষের নয়।

নিয়মের মধ্যে থেকেই তারা আন্দোলন করছেন বলে জানান বাসিত।

তিনি বলেন, বিমানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা মাসে ৭০ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন। কিন্তু বিমানের বৈমানিক সঙ্কট থাকায় তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন না করাকে কোনোভাবেই অন্যায় হিসেবে কেউ আখ্যায়িত করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বৈমানিকদে বয়স বাড়ানো সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর ফলে দু’একদিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, বিমানের ১৬৬ বৈমানিক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১১৭ জন বৈমানিক রয়েছেন। এ কারণে প্রায়ই বৈমানিকদের মাসের ৭০ ঘণ্টার বেশি ফাই করতে হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২২ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-10-25 07:22:15