ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ : প্রাণের উৎসবে মেতেছে পাহাড়

এস বাসু দাশ, জেলা প্রতিনিধি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-২৫ ০৩:২২:২৩ এএম
‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ : প্রাণের উৎসবে মেতেছে পাহাড়

বান্দরবান: আতশবাজি, বর্ণিল ফানুসের ঝলকানি আর মাহারথটানা উৎসবের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের বৌদ্ধ অনুসারীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উৎযাপিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।



তিন পার্বত্য জেলার মারমারা ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ নামে প্রবারণা পালন করে থাকে।

রোববার রাতে উৎসব উপলক্ষ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত এমপি বীর বাহাদুর নিজ বাসভবন থেকে কয়েক শ’ ফানুস উত্তোলন করেন। এ সময় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যন ক্য শৈ হ্লা এবং স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত চার দিন ধরে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের খ্যংওয়া ক্যাং, খ্যংফিয়া ক্যাং, রাম জাদি, করুণাপুর বৌদ্ধ বিহার, বুদ্ধ ধাতু জাদি, সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার, আম্রকানন বিহারসহ অন্যান্য ধর্মীয় ক্যাং বা বিহারগুলোতে প্রার্থনা এবং ছোয়াইং দানের জন্য পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে আছে। রাতে আদিবাসী অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পিঠা।

২১ অক্টোবর থেকে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ এর অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয় পাহাড়ে। বান্দরবানের অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, পাইং চাইন্দা নামক মারমা নাটক মঞ্চায়ন, মন্দিরে ছোয়াইং ও অর্থ দান, বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

রোববার রাতে শহরের পুরাতন রাজবাড়ির মাঠ থেকে ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে.. ’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়..) আদিবাসী মারমারা এই বিশেষ গানটি পরিবেশন করে মাহারথযাত্রা শুরু করে। এ সময় পাংখো নৃত্য পরিবেশন করে মারমা যুবকরা। রথ টানতে শত শত আদিবাসী রাস্তায় নেমে আসে। রথে জ্বালানো হয় হাজার হাজার বাতি এবং দান করা হয় নগদ অর্থ।

রোববার মধ্যরাতে শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীতে রথ উৎসর্গ করা হয়। জানা গেছে, ধর্মীয় আলোচনা, বুদ্ধ পূজা, উৎসর্গ ও আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসবের ইতি টানা হবে আগামী ২৮ অক্টোবর।

‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিংওয়াই মারমা বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ওয়াগ্যোয়াই পালন করতে পারায় আমরা আনন্দিত। ’

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ অনুসারীরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষ করে এবং শীল পালনকারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে (ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ) বৌদ্ধ বিহার থেকে নিজ সংসারে ফিরে যান আর এই কারণে আদিবাসীদের কাছে এই দিনটি বেশ তৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ সময় : ০৩০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa