ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

২৭ বছর পর স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন শাহিদা, তবুও আশাহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৫৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৫, ২০২৪
২৭ বছর পর স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন শাহিদা, তবুও আশাহত বড় বোনের পরিবারের সঙ্গে ২৭ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা শাহিদা ও তার স্বামী-সন্তান

জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দিকপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল ও ছাবেদা বেগম দম্পতির মেয়ে শাহিদা আক্তার। অভাব অনটনের সংসারে ১৯৯৭ সালে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় ৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি।

এরপর অনেক খুঁজেও তাকে পায়নি পরিবার।  

২৭ বছর পর সেই মেয়ে বাড়িতে ফিরলেন। তবে হলেন আশাহত।  বাবা-মায়ের দেখা পেলেন না শাহিদা। তারা আর বেঁচে নেই। ৪ বছর আগে বাবা ও এক বছর আগে মা মারা গেছেন।

রোববার (১৪ এপ্রিল) স্বামী ও ৪ বছরের মেয়েকে নিয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে ফেরেন শাহিদা। কিন্তু বাবা-মাকে না পেয়ে বড় বোন খালেদা বেগমের বাড়ি ইসলামপুরের গোয়ালের চলে যান।

ছোটবোন শাহিদাকে দেখে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন খালেদা। এ সময় আবেগঘন একটি মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গ্রামে পরিবার চালাতে না পেরে ১৯৯০ সালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় উত্তরায় চলে যান দিকপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল। ঢাকায় রিকশা চালানো শুরু করেন। ঢাকায় যাওয়ার পর একদিন গ্যাস না থাকায় ছোট্ট শাহিদা লাকড়ি কুড়াতে যান। সেখান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। ইব্রাহিম ও ছাবেদা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি।  

এদিকে শাহিদা এক পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লায় চলে যান। সেখানে এক বাসায় দীর্ঘ বছর বন্দি জীবন কাটান। পরে পালিলে অন্য এক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। তারাই তাকে গাজীপুরে সেলিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। এখন তার একটি মেয়েও আছে।

স্বামী-সন্তানসহ শাহিদা আক্তার

শাহিদা আক্তার বলেন, আমাকে যারা নিয়ে গিয়েছিল আমি তাদের কাউকেই চিনি না। আমাকে নিয়ে প্রথমে কুমিল্লায় নিয়ে গিয়ে একটি বন্ধ বাড়িতে রাখে। আমি প্রায় ৫ বছর সূর্যের আলো দেখিনি। সেখান থেকে এক সময় আমি পালিয়ে আসি। এসে আরেকটি বাড়িতে কাজ শুরু করি। তারা অনেক ভালো। আমাকে বিয়েও দিয়েছেন। আমি জীবনেও কল্পনা করিনি নিজের গ্রামে ফিরতে পারব। আমার ভাই বোনদের সঙ্গে দেখা করতে পারব। প্রায় সময় বাবা-মা ও পরিবারের কথা মনে পড়ত। কিন্তু ছোট বেলার তেমন কিছুই মনে পড়ত না। সম্প্রতি আমার মেয়ে নানা-নানির কথা জানতে চাইল। মেয়ের নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদে হঠাৎ বকশীগঞ্জের দিকপাড়া নামটি মনে পড়ে যায়। তখন থেকে বকশীগঞ্জের দিকপাড়া খুঁজতে থাকি।  

তিনি বলেন, বাবা-মাকে দেখার জন্যই খুঁজতে খুঁজতে এই গ্রামে চলে আসি। নিজের পরিবার ও বাড়ি ঠিকই খুঁজে পেলাম। কিন্তু আমার মনে আশা পূরণ হলো না। কারণ আমার বাবা-মা মারা গেছেন। বোন ও ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সবাইকে পেলাম ঠিকই। কিন্তু বাবা-মাকে পেলাম না।

বড় বোন খালেদা বেগম বলেন, বাবা-মার সঙ্গে সবাই ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম ছোটবেলায়। ঢাকায় যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তার ছোট বোন শাহিদা হারিয়ে যায়। শাহিদার কোনোদিন সন্ধান পাবে চিন্তাও করিনি। এতো বছর পর বোনকে পেয়ে বাড়িতে ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বড় বোন খালেদার স্বামী মঙ্গল বলেন, সে ফিরে আসায় নিজের কাছেও আনন্দ লাগছে । এটি নজির হয়ে থাকল।  আমরা তার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।

এদিকে ২৭ বছর পর পরিবারের ছোট মেয়ে ফিরে এসেছে খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শাহিদাকে এক পলক দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসীর প্রত্যাশা এই সম্পর্ক যেন অটুট থাকে।

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৫, ২০২৪
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।