ঢাকা, সোমবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৭ মে ২০১৯
bangla news

৪৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন ভোলার ৬ উপজেলা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-১৯ ৬:২০:২২ এএম

ভোলায় চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত গ্যাসভিত্তিক ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ভোলা: ভোলায় চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত গ্যাসভিত্তিক ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে শুধু সদর উপজেলা শহরে দিনে ২/১ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও জেলার বাকি ৬ উপজেলায় টানা  ৪৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই ৬ উপজেলায় ২০ টি বরফকলসহ অর্ধশতাধিক কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর ফলে হাসপাতালোতে বন্ধ রয়েছে জরুরি অপারেশনও। রোগীরা পড়েছেন চরম সংকটে। বাসা-বাড়িতে ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটছে শিার্থীদের। এতে বিুব্ধ হয়ে উঠছে সাধারণ গ্রাহকরা।

ভোলা জেলা বিদুৎ গ্রাহক ফোরামের আহবায়ক বরকতউল্লাহ মিল্টন বাংলানিউজকে জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ কর্তৃপ একটানা ৪৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে জীবনযাত্রা। এক রকম অচল হয়ে পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য।

শহরের ওয়েস্টার্ন পাড়ার গৃহিনী ও স্কুল শিকিা কামরুন নাহার শিল্পি জানান, ২দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তার ফ্রিজের সব মাছ-মাংস ও খাবার নষ্ট হয়ে গেছে।
   
স্থানীয় শিল্পপতি ও প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্কের সত্ত্বাধিকারী জাকির হোসেন সবুজ জানান, পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল শিশু পার্কটি  বিদ্যুৎ না থাকায় অচল হয়ে পড়েছে। ‘এতে বহু টাকার লোকসান গুনতে হবে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা শুধু বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল টানা লোডশেডিংয়ে তাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।’

ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্রী মোনালিসা জানান, প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীা চলছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশুনায় মারান্তক বিঘœ ঘটছে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. শাহে আলম শরিফ জানান, ভোলা সদর হাসপাতালে নিজস্ব জেনারেটর নেই। তাই দীর্ঘ ৪৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে রোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসা সেবাও মারাতœক বিঘিœত হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে ভোলার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভেঞ্চার এনার্জি লিমিটেডের সাহকারী ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে বাংলানিউজকে জানান, গত ৭ দিন আগে জাতীয় গ্রিড লাইনে বিপর্যয় ঘটে। এর মধ্যেও এই বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বভাবিক ছিল। কিন্তু  রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিদ্যুতের লাইনে যান্ত্রিক ত্র“টি দেখা দেওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার  ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী দুলাল চন্দ্র ঘোষ জানান, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে শুধুমাত্র জেলা সদরে ১ ঘন্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে।

এ অবস্থঅয় তবে ৩৪ মেগাওয়াট প্লান্ট মেশিন চালু না হওয়া পর্যন্ত বাকি ৬ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরকরাহ বন্ধ থাকবে।

তবে কবে নাগাদ প্লান্ট চালু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে তা নিশ্চিত করে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-10-19 06:20:22