ঢাকা, শনিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

মালয়েশিয়ার প্লেনে না উড়ে রিয়া উঠল লাশবাহী গাড়িতে!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০৫ ঘণ্টা, মার্চ ১, ২০২৪
মালয়েশিয়ার প্লেনে না উড়ে রিয়া উঠল লাশবাহী গাড়িতে!

কুমিল্লা: শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে বাবাসহ মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইট ছিল রিয়ার। বিদেশ যাবে, তাই আগেরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এক আন্টির সঙ্গে দেখা করতে এবং শপিং করতে রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে যায় সে ও তার বোন আলিশা।

সঙ্গে ছিল খালাতো বোন নিমু। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা আর ফেরেনি। তিনজনই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন।  

রিয়া ও আলিশার বাবা কোরবান আলী জানান, রিয়া যাবার আগে বলেছিল, ‘বাবা আমরা তাড়াতাড়ি ফিরব। ’ কিন্তু আগুনের ঘটনায় আমার মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া ও সাদিয়া আফরিন আলিশা মৃত্যু হলো। আমার সব শেষ হয়ে গেছে....! 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামে কোরবান আলীর বাড়ি। তার মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আর সাদিয়া আফরিন আলিশা ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই ঘটনায় নিহত তাদের খালাতো বোন নুসরাত জাহান নিমু সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা একই সঙ্গে শপিং করতে গিয়েছিল। ফাঁকে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

কোরবান আলী বলেন, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তারা এলাকায় এসেছিল। কয়েকদিন বাড়িতে থেকে চলে গেছে। শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে রিয়া ও আমি মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। টিকিটও কেটেছিলাম। কিন্তু গত রাতেই সে মারা গেছে। নিমু আমাদের কাকরাইলের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো। আমার ঘর আনন্দে ভরে থাকতো। আজ আমার ঘর শূন্য!

সরেজমিনে চরবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িতে প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখে পানি। নারীরা সবাই লাশের গাড়ির আশপাশে ভিড় করেছেন। কেউ লাশের গাড়ি ধরেও কাঁদছেন।  

কাঁদতে কাঁদতে কোরবান আলী বলেন, যখন জীবিত মানুষ উদ্ধার শেষ হলো, তখন আমার শরীর কাঁপছিল। আমি ঘামাচ্ছিলাম। বুকের ভেতর কেমন জানি হয়েছিল। বুক ভারী হয়ে আসছিল। রাত যখন ১০টার কাছাকাছি, তখন আমাদের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হলো।  

কোরবান আলী অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা যারা ঢাকায় থাকি, আমরা সব সময়ই আতঙ্কে থাকি। আমরা কেউ নিরাপদ নই। একটি দুর্ঘটনা ঘটলে সবাই নড়েচড়ে বসে। আবার কদিন পরে আগের মতো হয়ে যায়। তাদের শরীর তেমন পোড়েনি। শ্বাসকষ্টে মারা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু ডিশ লাইন, ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক ক্যাবলের জন্য তাদের গাড়িও ঠিক জায়গায় স্থাপন করে পানি দিতে পারেনি।

** বেইলি রোডে ভবনে আগুনের সূত্রপাত বিষয়ে যা জানা গেল

বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, মার্চ ০১, ২০২৪
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।