ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২৩ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

‘ভারতের সঙ্গে নৌপথে বাণিজ্যে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল হবে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪
‘ভারতের সঙ্গে নৌপথে বাণিজ্যে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল হবে’

রাজশাহী: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, রাজশাহী থেকে ভারতের নৌপথে বাণিজ্য চালুর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর তা বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকল স্বাক্ষর করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথ আবারও চালু হয়েছে। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ প্রটোকলের আওতাভুক্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল এবং সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উদ্বোধন হয়। এ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সুধী সমাবেশে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পুরো রাজশাহী আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকা। এ অঞ্চলে কৃষিপণ্যের বাম্পার ফলন হলেও শিল্পায়ন না হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। ভারতের সঙ্গে নৌপথে বাণিজ্যের কারণে আমরা অনেকভাবে লাভবান হবো। ভারত থেকে কয়লা, পাথর, ফ্লাই অ্যাশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা যাবে। বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা যাবে। এতে রাজশাহীর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

মেয়র বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা, বাণিজ্যের ব্যবস্থা এতটাই উন্নত হয়েছে আজ ভারত আমাদের নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথও ব্যবহার করছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে ময়া থেকে সুলতানগঞ্জ হয়ে রাজশাহী হয়ে আরিচা পর্যন্ত নৌপথটি চালু হলে ভারত এ পথ ব্যবহার করে তাদের সেভেন স্টার প্রদেশে স্বল্প খরচে পণ্য নিয়ে যেতে পারবে। আমরা এখান থেকে অনেক রাজস্ব পাবো। উভয় দেশ সমৃদ্ধ হতে পারবো। সেই পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

গ্লোবাল ভিলেজের এ যুগে বর্তমানে নিজেকে গুটিয়ে রাখা বা আড়াল করে রাখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে রাসিক মেয়র বলেন, সব দেশ নিজেদের বর্ডার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শেয়ার করে মানুষের যাতায়াতের কল্যাণ সাধন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভবান হতে চায়। আজ যে নৌপথে নৌযান চলাচল চালু হয়েছে, আগামীতে সময়ের বিবর্তনে বিশাল ক্ষেত্রে পরিণত হবে। সেখানে অজস্র মানুষের কর্মসংস্থান হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি- এ কামনা করি।

সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪
এসএস/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।