ঢাকা, সোমবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২২ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

বাংলাদেশ-ইথিওপিয়া বিমান চলাচলে চুক্তি সই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০২৩
বাংলাদেশ-ইথিওপিয়া বিমান চলাচলে চুক্তি সই

ঢাকা: বাংলাদেশ-ইথিওপিয়ার মধ্যে নতুন দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির ফলে দুই দেশের মনোনীত বিমান সংস্থার সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

নতুন এ চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তির আওতায় বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মধ্যে Agreed Minutes; জর্ডান, আলজেরিয়া, ওমান, থাইল্যান্ড, কানাডা, উজবেকিস্তান-এর সঙ্গে Record of Discussion; এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে Record of Discussion স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।  

গত ৩-৭ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আওকাও)-এর বিমান চলাচল নেগোসিয়েশন সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ICAO Air Services Negotiation Event 2023 (ICAN2023) অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এ বছর আইকাও-এর ৯৭টি সদস্য দেশের এরোনটিক্যাল অথরিটির প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেছেন। এ ইভেন্টে মূলতঃ আইকাও-এর সদস্য দেশসমূহ নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর/অনুস্বাক্ষর, দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তির সম্প্রসারণ এবং বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা/পর্যালোচনা হয়ে থাকে। আলোচনা পর্যালোচনার পর আলোচিত বিষয়ের ওপর Record of Discussion, Agreed Minutues, Memorandum of Understanding স্বাক্ষর হয়ে থাকে।

নেগোসিয়েশন সংক্রান্ত আইকাও-এর সবচেয়ে বড় এ ইভেন্টটি প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্বব্যাপী কোডিড মহামারির কারণে ২০১৯ সালের পর বাংলাদেশ এই ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

এ বছর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিসহ ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করে।

এই ইভেন্টে বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ১৩টি দেশের দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনাতে বিমান বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশীয় এয়ারলাইনসের সঙ্গে বিদেশি এয়ারলাইনসের কোড শেয়ারসহ বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অধিকন্তু, এ ইভেন্টে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এ ৩টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিনিধি দল গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ সভা করেছে।

এছাড়াও বেবিচক চেয়ারম্যান এই ইভেন্টে আরও অনেক রাষ্ট্রের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মতবিনিময় করেন।

সার্বিকভাবে ICAN2023 ইভেন্টে অংশগ্রহণের কারণে একদিকে যেমন বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিনের অনিষ্পন্ন বেশ কিছু বিষয় সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ আরো বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশগুলোর আগ্রহ, অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে দেশগুলোর উচ্চধারণা সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়েছে-যা বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আরো অবদান রাখবে বলে মনে করছে বেবিচক।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০২৩
এমকে/নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।