bangla news

দশ ট্রাক অস্ত্র: জানতেন খালেদা, ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন নিজামী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-০৭ ১১:৪৭:০১ এএম

চট্ট্রগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জানতেন বলে জবানবন্দী দিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ড. শোয়েব আহমেদ। তিনি জবানবন্দীতে বলেন, ‘বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী।

চট্টগ্রাম: চট্ট্রগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জানতেন বলে জবানবন্দী দিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ড. শোয়েব আহমেদ।

তিনি জবানবন্দীতে বলেন, ‘বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী। একই ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব নূরুল আমিনের ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এসব তথ্য ফাঁস করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ড. শোয়েব আহমেদ।

সচিব শোয়েব আহমেদ বলেন, ‘আমি যখন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলি তখন তিনি আমাকে ধমক দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করেন, আপনি কি বলতে চান আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলিনি? এরপর মন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ‘হাইয়েস্ট অথরিটি’ আমাকে বলেছেন, এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ই যা করার করবে।’

শোয়েব আহমেদ আরও বলেন, এখানে হাইয়েস্ট অথরিটি বলতে মন্ত্রী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই বুঝিয়েছিলেন। কারণ সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।’

বাংলানিউজকে জবানবন্দী গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাক্ষী হিসেবে সাবেক শিল্প সচিব আদালতে স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।’

দুপুর পৌনে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত টানা পৌনে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সাবেক এই আমলার দেওয়া ২০ পৃষ্ঠার জবানবন্দী রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান।

আদালত সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জবানবন্দীতে ড. শোয়েব আহমেদ বলেন, ‘সিইউএফএল জেটিতে অস্ত্র খালাসের পরদিন আমি এ বিষয়ে করণীয় জানতে শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে কথা বলি। মন্ত্রী আমাকে বলেন, বিষয়টি আমি আপনার আগেই শুনেছি, তবে এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। যা করার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করছে।’

জবানবন্দীতে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত সচিব নূরুল আমিন বিষয়টি স্বীকার করলেও রহস্যজনক উত্তর দেন। পরে ওই বছরের ২৮ জুলাই আমাকে বদলি করা হয়।’

ড. শোয়েব আহমেদ বলেন, ‘দশ ট্রাক অস্ত্র আটক এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে শিল্পমন্ত্রী ও অতিরিক্ত সচিবের আচরণ আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

এর আগে সোমবার আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় ‘উদাসীন ও এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল’ নেওয়ার অভিযোগ আনেন বিসিআইসি’র  তৎকালীন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম।

২০০৪ সালের পহেলা এপ্রিল রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)’র জেটিঘাটে খালাসের সময় দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে। এ   ঘটনায় অস্ত্র আটক ও চোরাচালান আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় পুলিশ এর আগে চার্জশিট দাখিল করলেও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মহানগর দায়রা জজ মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

অধিকতর তদন্ত শুরুর পর থেকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি এ পর্যন্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআইয়ের সাবেক দুই মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম, সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন, সিইউএফএল’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) একেএম এনামুল হককে গ্রেফতার করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

বাংলাদেশ সময় : ২১২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-10-07 11:47:01