ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২৩ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা: দ্রুত গতিতে চালানোই ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৫ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০২৩
অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা: দ্রুত গতিতে চালানোই ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ

ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গার মালিগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লেগে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। আঁকাবাঁকা সড়কে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোই ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) তদন্ত কমিটির প্রধান ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, সোমবার (২৬ জুন) বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দাসসহ ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

এদিকে সোমবার সকালে নিহতদের বাড়িতে স্বজনদেরকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে যান দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান।

এছাড়া জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন ও ইউএনও মোশারেফ হোসাইন।

ঘটনার দিন নিহতদের ব্যাগে থাকা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জেলা পুলিশ জানতে পারেন, যে তাদের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামে। ডিসি-এসপি সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এবং ওসিকে বিষয়টি জানানো। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় নিহত তাসলিমা বেগমের বাড়িতে ওইদিন দুপুর ৩টার দিকে এ খবর পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হতে থাকে ফেলাননগর, মাইটকুমরা ও কুচিয়াগ্রাম। পরে ওইদিনই মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া ওইদিন রাতেই ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দাসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। পরদিন রোববার দুপুরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সোমবার প্রতিবেদন জমা দেয়। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জয়ন্ত সরকার বাদী হয়ে সোমবার ভাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল চন্দ্র দাস জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২৩ সালের ফিটনেস সনদের মেয়াদ ও চালকের কাগজপত্র সবই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু আঁকাবাঁকা সড়কে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোই ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ।

তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সটির বাম পাশের টায়ার ব্লাস্ট হয়ে বামে-ডানের এক্সপ্রেসওয়ের আইল্যান্ডে ধাক্কা খায়। পরে গাড়িটি সোজা হয়ে সামনে গিয়ে রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে পড়লে ইঞ্জিনের ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়লে গাড়িতে থাকা সবাই পুড়ে যান এবং সবার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশে আগুন ধরে গিয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মালিগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে অ্যাম্বুলেন্সটিকে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ যাত্রীর মৃত্যু হয়। তবে দরজা খুলে দগ্ধ অবস্থায় ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালক বের হতে পারেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সর্বমোট ৮ জন প্রাণ হারান।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৩ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০২৩
এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।