ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯
bangla news

গোপালপুরে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৭

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-০৬ ৬:৩৪:৪২ এএম

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বুধবার ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বুধবার ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।

এ রিপোর্ট লেখার সময়েও ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন ছিলো অতিরিক্তি পুলিশ।

আহতদের গুরুতর অবস্থায় গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ ক্যাডাররা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জসিমকে অপহরণের চেষ্টা চালানোর পর উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম লেলিন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জসিম মোটরসাইকেল নিয়ে গোপালপুরের মির্জাপুর থেকে গোপালপুর উপজেলা শহরে আসছিলেন।

মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর উত্তরপাড়া গ্রামীন ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে আগে থেকে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডারা জসিমের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে  বেদম প্রহার করে। এ সময় তার হাত পা বেঁধে ভ্যানে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

জসিমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজনসহ যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

এসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের সংঘর্ষ বাঁধে।

পরে ঘটনা জানাজানি হলে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জসিম, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মিনহাজ, ছাত্রদল কর্মী মনির (বড়), মনির (ছোট) ও যুবলীগ কর্মী টগর, এবং ছাত্রলীগ কর্মী সাহাদৎ ও ছোট নজরুল গুরুতর আহত হন।

আহতদের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে যুবলীগের টগর এবং ছাত্রদলের বড় মনির ও ছোট মনিরের অবস্থা আশংকাজনক।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়। এ রিপোর্ট লেখার সময়েও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিলো। এলাকায় বিরাজ করছিল চরম উত্তেজনা।

গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান ইব্রাহীম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম।

বাংলানিউজকে তিনি জানান, ২০০১ সালের নির্বাচনে পরপরই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদারের উপর হামলা চালায় টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জসিম। তিনি তখন ছিলেন ঘাটাইল কলেজের জিএস।

তার গুলিতে গুরুতর আহত হন ফারুক আহমেদ ও হালিমুজ্জামান তালুকদার। এর পর থেকে পলাতক ছিলেন জসিম।

নজরুল ইসলাম আরও জানান, সম্প্রতি ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে গোপালপুরে আবারও কার্যক্রম শুরু করেন জসিম। এরই এক পর্যায়ে যুবলীগের দুই কর্মীর সঙ্গে জসিমের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জসিমের লোকজন যুবলীগ কর্মীদের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী টগর বাদী হয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ৬, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-10-06 06:34:42