ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

সাতমসজিদ সড়কের গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১২৬ ঘণ্টা, মে ৮, ২০২৩
সাতমসজিদ সড়কের গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ

ঢাকা: ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় গ্রিন ভয়েসের উদ্যোগে ওই সড়কেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনের সঞ্চালনায় ছাত্র-যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশিদ, সাবেক ছাত্রনেতা লেখক কলামিস্ট রুস্তম আলী খোকন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নারী পক্ষের শিরিন আক্তার, সাতমসজিদ রোড গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব, জলবায়ু পরিবর্তন নীতি বিশ্লেষক জাকির হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মাহবুব হাপসেন ও ইবনুল সাঈদ রানা,পরিবেশ বীক্ষণ এর মাহমুদা দীপা, ছাত্র ইউনিয়নের তামজীদ হায়দার চঞ্চল, উন্নয়ককর্মী ফজিলা খানম, রাজনৈতিক কর্মী মনীষা মজুমদার এবং গ্রিন ভয়েসের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।  

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যে সিটি করপোরেশন গাছের মর্ম বোঝে না, গাছের মূল্য বোঝে না, সেই সিটি করপোরেশন আমাদের না। এই শহর আমাদের। সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের প্রত্যেকের আছে। গাছ না থাকলে আমরা শ্বাস নেব কীভাবে? গাছ না থাকলে প্রচণ্ড খরা রোদে আমাদের ছায়া দেবে কে? বায়ু-দূষণজনিত রোগে প্রতি বছর দেশের ৮০ হাজার মানুষ মারা যায়। এ ভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে উজাড় করলে এই কংক্রিটের শহরে নাগরিকেরা নিরাপদে বাঁচবেন কীভাবে? তাই আসুন সবাই মিলে অবশিষ্ট গাছগুলোকে বাঁচাই, সর্বোপরি নিজেদের বাঁচাই। আপনার ঘরের ছোট্ট শিশুটির জন্য, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্যে এবং আপনার নিজের জন্যে গাছ রক্ষার এই আন্দোলনে আপনাদের সকলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি।

সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর কবির বলেন, ৭ মে- প্রাকৃতিক অক্সিজেন রক্ষা দিবস। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে বৃক্ষ রক্ষায় সচেতন করা। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা জানানো। বৃক্ষ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর মে মাসের ৭ তারিখ পালন করা হচ্ছে প্রাকৃতিক অক্সিজেন রক্ষা দিবস।

২০২১ সালের ৭ মে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের কর্মী, পরিবেশবিদ, নগরবিদ, প্রকৃতিপ্রেমীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। গাছ কেটে খাবারের দোকান বা অন্যান্য স্থাপনা তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।  

আন্দোলনের ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ করে রেস্তোরাঁ/দোকান স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করা হয়। সেই দিনের সেই সমাবেশ থেকে গ্রিন ভয়েসের উদ্যোগে ৭ মে প্রাকৃতিক অক্সিজেন রক্ষা দিবস প্রতিবছর পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সাল থেকে এ দিবস পালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরবিদদের দেওয়া হিসাব বলছে, প্রতিটি বড় শহরে ২০ শতাংশ সবুজ স্থান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কাগজে-কলমে নতুন ঢাকায় আছে ১২ আর পুরান ঢাকায় ৫ শতাংশ। বাস্তবে তার পরিমাণ আরও কম। সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা অবগত আছেন কোনোভাবেই ধানমন্ডি সড়কে গাছ কাটা থামছে না। ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কের বহু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং আরও গাছ মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্ক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়োগ করা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাতমসজিদ সড়কের গাছ কেটে সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজক উন্নয়নের কাজ করছে। ‘সাতমসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলনের’ ব্যানারে সাতমসজিদ সড়কসহ ঢাকার সকল সড়কের গাছ রক্ষার দাবি জানিয়ে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি।  

বক্তারা বলেন, নগরের অসহনীয় তাপদাহে নগরবাসী যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়ক থেকে জিগাতলা পিলখানা গেট পর্যন্ত কয়েকশ গাছ কেটে ফেলছে ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশন। এই এলাকায় যারা বসবাস করেন কিংবা যারা এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন, তাদের জন্যে এই সিদ্ধান্ত একটি ভয়ংকর ফল নিয়ে আসছে। গত কয়েক দশক ধরে রাস্তার ধারের এই গাছগুলো যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলোবালির বিপরীতে শুদ্ধ বাতাস ও অক্সিজেন সরবরাহ করে আসছে। রাস্তার ধারের বট, বরই, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়াসহ এই গাছগুলো প্রতিদিনের জীবন-যাত্রার সঙ্গী। ধুলা, দূষণ ও নদীহীন এই শহরে নাগরিকদের সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখার রাখার একটি বড় মাধ্যম। কিন্তু জানুয়ারি মাস থেকে ঝিগাতলা এলাকা থেকে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। রাতের আঁধারে নানা যন্ত্র এনে নির্দেশনা মোতাবেক সাতমসজিদ রোডের কয়েকশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান, তারা এখনো জানাচ্ছেন।

তারা বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষা করেই করতে হবে। এই গাছগুলোকে রেখেই সড়ক বিভাজকের সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা সম্ভব।

সমাবেশ থেকে এসময় কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো- (১) অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে দ্রুত কাটা গাছের স্থানে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করতে হবে; (২) সড়ক বিভাজকের গাছ রেখেই সড়কদ্বীপের উন্নয়ন করতে হবে; এবং (৩) উন্নয়নের নামে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন করা যাবে না।

বাংলাদেশ সময়: ০১১৭ ঘণ্টা, মে ৮, ২০২৩
এইচএমএস/আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।