ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

সুনামগঞ্জে পৃথক ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫০ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
সুনামগঞ্জে পৃথক ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন আদালতের রায়: প্রতীকী ছবি

সিলেট: সুনামগঞ্জে পৃথক ধর্ষণের মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এ রায় দেন।

ওই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর নান্টু রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জরিমানার টাকা ভুক্তভোগীদের প্রদানে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-জেলার বিশ্বম্ভর পুরের খলিল আহমদ ও আব্দুর রহমান আব্দুল।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চেংবিল গ্রামের এক নারী খলিল আহমদের কাছ থেকে পাওনা ১২ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

তাকে এগিয়ে দিতে গিয়ে আসামি খলিল আহমদ চেংবিল ও ডলুরা গ্রামের মধ্যবর্তী আখক্ষেতে ভিকটিমকে মাটিতে ফেলে ধর্ষণ করে।

নালিশকারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে খলিলকে হাতেনাতে আটক করে পঞ্চায়েতের কাছে সোপর্দ করেন। পঞ্চায়েতে মীমাংসা না হওয়ায় নালিশকারী আদালতে এসে মামলা করেন।

এরই মধ্যে নালিশকারী গর্ভবতী হয়ে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। আসামির ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায়ও প্রমাণিত হয় ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়ার শিশুর বাবা আসামি খলিল আহমদ।

মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। তৎপরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ৪ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামি খলিল আহমদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

অপরদিকে, ধর্ষণের দায়ে আসামি আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্ত হবে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি সদর থানাধীন কৃষ্ণনগর গ্রামের এক মেয়েকে উপজেলার সৈয়দপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠে ঘোড়া দৌড় দেখতে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই গ্রামের ফিরোজ মিয়ার বাড়ির সামনের সরকারি খালের পাড়ে আসামাত্র আসামি আব্দুর রহমান তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির কান্নাকাটির এক পর্যায়ে বাড়িতে ফিরলে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়।

মামলার পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। তৎপরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৮ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামি আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুলকে যানজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫০ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
এনইউ/জেএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।