ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

জাতীয়

অযোধ্যা রায়: ‘রায়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন’

শামীম খান, ইশতিয়াক হুসাইন, আসাদ জামান, তুহিন শুভ্র অধিকারী ও মেহেদী হাসান তানিন | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩১২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১০

ঢাকা: অযোধ্যায় মন্দির মসজিদ দুটোই থাকবে বলে বাবরি মসজিদ মামলায় রায় দিয়েছেন এলাহাবাদের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫৫মিনিটে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা  হয়।

এ রায় নিয়ে ভারতসহ গোটা বিশ্ব ছিল উৎকণ্ঠার মধ্যে। রায়ের পর সাম্প্রদায়িক হানাহানি শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছিল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের আইনজীবী, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়াও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলাপ হয় বাংলানিউজে’র। জানতে চাওয়া হয় তাদের অভিব্যক্তি। তবে এদের অনেকেই স্পর্শকাতর এ রায় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ রায়কে ‘রাজনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই রায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পদক্ষেপ। ’

রায়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ইউসুফ হোসেন আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমে রায় সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে এটা জুডিশিয়াল সিদ্ধান্ত মনে হয় না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পদক্ষেপ বলে মনে হয়। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র অক্ষুণœ রাখতে এ রায় সহায়তা করবে। ’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আদালত রায়ে কী লিখেছে সে সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা না নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আমি এখনও এ বিষয়ে পুরোপুরি জানি না। ’

আরেক সদস্য এম কে আনোয়ার এম কে আনোয়ার বলেন, ‘মুসলমানদের অভিযোগ মসজিদ ভেঙে উগ্র হিন্দু জনগোষ্ঠী অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণ করেছে। আর হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ মন্দির ভেঙে মুসলমানরা সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেছিল। এখন রায় দেখে মনে হচ্ছে উভয়ের মনই রক্ষা করেছে আদালত। এটি একটি ‘কম্প্রমাইজ’ রায়। ’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমার জানা মতে আদালতের রায়ে সত্যের প্রতিফলন হয়। এখানে কোনো কম্প্রমাইজের সুযোগ নেই। তবে এ ব্যাপারে আইনজীবীরা ভালো বলতে  পারবেন। ’

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মুসলমানরা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু যেখানে মসজিদে নামাজ হবে। তার পাশেই আবার মূর্তি পূজাÑএটি কী করে সম্ভব!’

তিনি বলেন, ‘ভারতের মুসলামানদের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষেই আমাদের অবস্থান। ’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে হয়তো মুসলমান সমাজ কিছুটা মনুণœ হতে পারে। তবে আশা করি মুসলমানরা আদালতের রায় বিবেচনায় রেখে এটা মেনে নেবে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আশা করছি এ রায় ভারতের হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মেনে নেবে। ’

রায়কে যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বহু ধর্মের দেশ ভারতে সবাই যাতে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে রায়ে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কিংবা ভারতের এমন কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে বসবাস করে না। এ রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ধর্মকে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ’

কোনো সভ্য সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা কাম্য নয় জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এর আগে এ ইস্যু নিয়ে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, আশা করছি এখন তা হবে না। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও ডেইলি সান সম্পাদক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম এ ধরনেরই একটি রায় হবে। এ রকম একটি ভারসাম্যপূর্ণ রায় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। ’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের চেয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এ রায়ে। আমি এ রায়কে যুক্তিসঙ্গতই মনে করি। ’

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa