bangla news

দশ ট্রাক অস্ত্র : ধামাচাপা দিতে বাবরের নির্দেশ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৯-৩০ ১১:২৩:৩১ এএম

দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক সরাসরি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম : দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক সরাসরি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অস্ত্র আটকের পর সেদিন রাতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর টেলিফোনে তৎকালীন সিএমপি কমিশনারকে বলেছিলেন, ‘আটক করা অস্ত্রগুলো নিরাপদভাবে তোমাদের হেফাজতে রাখো। তবে এনএসআই কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা যাবে না।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এসব তথ্য ফাঁস করেছেন তৎকালীন সিএমপি কমিশনার এম সাব্বির আলী।

জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন মহানগর আদালতের সরকারি কৌশুলী কামালউদ্দিন আহমেদ।

দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার দেওয়া ১৪ পৃষ্ঠার জবানবন্দি রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান।

জবানবন্দিতে সাব্বির আলী বলেন, ‘দুটি ট্রলার থেকে অস্ত্র খালাসের বিষয়টি তখনকার বন্দর ডিসি (পোর্ট) আবদুল্লাহ হেল বাকীর কাছ থেকে জানতে পেরে রাতেই আমি প্রথমে আইজি, পরে এডিশনাল আইজি, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমাকে বলেন অস্ত্র আটকের বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই আমরা যেন এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলি। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেন।’

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি (পোর্ট) আমাকে জানান অস্ত্র আটকের সময় সিইউএফএল ঘাটে উপস্থিত মেজর লিয়াকত হোসেন নামে একজন নিজেকে এনএসআই’র উপপরিচালক পরিচয় দিয়ে তাকে ধমক দেন। এ সময় তিনি বলেন, উর্দ্ধতন কর্র্তপরে নির্দেশে অস্ত্রগুলো খালাস হচ্ছে। আপনার অস্ত্রগুলো আটক করা ঠিক হচ্ছে না।’

সাবেক পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘অস্ত্র আটকের পরদিন দামপাড়া পুলিশ লাইনে অস্ত্রগুলো পরিদর্শনের সময় আমি আবারও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে এনএসআই কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জানাই। তারা আমাকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কথা না বলার নির্দেশ দেন।’   

২০০৪ সালের পহেলা এপ্রিল রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)’র জেটিঘাটে খালাসের সময় দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে। ঘটনা তদন্তে সে সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

ওই কমিটির তিন সদস্য ইতোমধ্যে সঠিক তদন্ত না হওয়ার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুককে অভিযুক্ত করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।  

উল্লেখ্য দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় অস্ত্র আটক ও চোরাচালান আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় পুলিশ এর আগে চার্জশীট দাখিল করলেও বিগত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি মহানগর দায়রা জজ মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

অধিকতর তদন্ত শুরুর পর থেকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি এ পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক দুই মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম, সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন, সিইউএফএল’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) একেএম এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

বাংলাদেশ সময় : ২১১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-09-30 11:23:31