ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে শিক্ষিকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৫৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩, ২০২২
মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে শিক্ষিকা

বাগেরহাট: বাগেহাটের মোড়েলগঞ্জে উপজেলার কাঁঠালতলা গিয়াসিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষিকা।  

ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে তাকে নানাভাবে হুমতি-ধামকি দিচ্ছেন সুপার ও তার লোকজন।

এমনকি মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছেন তারা। এই অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

এদিকে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে ওই সুপারের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই)।  

গেল ২৭ নভেম্বর আদালত অভিযুক্ত সুপারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পিবিআই'র তদন্তের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি।

নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষক বলেন, আমার স্বামী একজন সৌদি প্রবাসী, বিষয়টি জানতে পেরে সুপার তার বাড়িতে আমাকে রাত্রি যাপনসহ নানা কু-প্রস্তাব দেন। সুপারের প্রস্তাবেই রাজি না হলে, সে অশ্লীল কথাবার্তা ও আকার-ইঙ্গিত প্রকাশ করেন। চলতি বছরের ১৪ মার্চ দুপুরে মাদরাসা ছুটি শেষে সুপারের বাসায় কম্পিউটার রাখতে যাই। ঘরে প্রবেশ করলেই সুপার আমার সঙ্গে জোর জবরদস্তি করেন। সম্মান বাঁচাতে ডাক-চিৎকার দিলে তিনি আমাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু পরিবার ও সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে ঘটনাটি গোপন রাখি।

পরবর্তীতে সুপার জানায় আমাকে জোর জবরদস্তির সেই ভিডিও রয়েছে তার কাছে। আমি তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনে রাজি না হলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেবেন। কোন উপায় না পেয়ে সহকর্মীদের বিষয়টি অবগত করি। এতে সে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয় এবং আমার সঙ্গে আরও খারাপ আচরণ করতে থাকেন।  

সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদ্রাসার পরিত্যক্ত রুমের জায়গায় নারী শিক্ষকদের জন্য পুরাতন টয়লেট সংস্কার করে দেবেন বলে আমাকে ডেকে নেন। সেখানেও জোরাজুরি করলে আমার আমার  ডাক-চিৎকারে অন্য শিক্ষকরা চলে আসেন। তিনি আমাকে ছেড়ে দেন।  

এসব ঘটনার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ  সুপারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করি। এর পর থেকে সুপার ও তার লোকজন বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। মামলা না তুললে প্রাণে মেরে ফেলার কথাও বলছেন।

তিনি আরও বলেন, সুপারের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই আমাকে মাদ্রাসায় যেতে হয়। যার কারণে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই অবস্থায় সুপারকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হালিমের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কাঁঠালতলা গিয়াসিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শহিদুজ্জামান সাবু বলেন, মাদরাসা সুপার মো. আব্দুল হালিম বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা হওয়ায় এবং বিনা ছুটিতে মাদরাসায় উপস্থিত না থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিহাদ হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মাদরাসা পরিদর্শন করেছি। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষকের অভিযোগ বিষয়টি আমলে নিয়েছে আদালত। সুপারের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

 বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩, ২০২২
এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa