ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মনোকথা

‘মেয়েলি বৈশিষ্ট্য’ ভোট বাড়ার কারণ হতে পারে

মনোকথা ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১৫
‘মেয়েলি বৈশিষ্ট্য’ ভোট বাড়ার কারণ হতে পারে

ঢাকা: নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাজনীতিবিদদের শারীরিক গঠন ভোটারদের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। প্রাচ্যের ভোটারদের নিয়ে জরিপ চালালে কনজারভেটিভ ও লিবারালদের পছন্দের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।



দেখা যায়, লিবারাল ভোটাররা ভদ্র চেহারা ও কনজারভেটিভরা পুরুষালী চেহারার নেতা পছন্দ করেন। কেবল চেহারাই নয়, ভারী কণ্ঠস্বর, বর্গাকার চোয়াল ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যও থাকা দরকার।

সম্প্রতি অরহুস ইউনিভার্সিটি এ বিষয়ে দু’টি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গবেষকরা বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার, ভোটাররা নেতা নির্বাচন করার আগে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় লক্ষ্য করেন।

ভরাট গলার বক্তব্য ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আরও সাধারণভাবে বলতে গেলে, কনজারভেটিভ ভোটাররা সুঠাম দেহের অধিকারী নেতাদের পছন্দ করেন। অন্যদিকে, লিবারালরা একটু নমনীয়, এমনকি কখনও কখনও মেয়েলি স্বভাবের নেতাদের পছন্দ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের গবেষক ড. লাসি লসেন প্রতিবেদনে বলেন, কেন এ পার্থক্য হয়, তা বুঝতে হলে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। ভোটারদের মানসিকতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা মনে করেন, পৃথিবী খুবই বিপজ্জনক জায়গা। কমপক্ষে ভারী কণ্ঠস্বর, এমন নেতা নির্বাচন করলে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন।

ওই ব্যক্তিদের সামনে একটি ভয়ঙ্কর প্রাণী ধরে (যেমন বড় আকারের একটি মাকড়শা) ফিঙ্গারটিপস (স্কিন কনডাক্ট্যান্স রেসপন্স) থেকে ক্রমাগত শারীরিক অনুভূতি ও ঘামের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। একই পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, কনজারভেটিভরা তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখান।

গবেষকরা বলেন, সাইকোলজিক্যাল মেকানিজমই আমাদের পূর্ব পুরুষদের বাঘসহ অন্য শিকারি প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করেছে। মানসিক সহনশীলতার কারণেই মানুষ ডান-বামপন্থী দলের নেতাদের নির্বাচন করেন।

গবেষক ড. মাইকেল ব্যাঙ পিটারসেন বলেন, কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্র অনিয়ন্ত্রিত। সেই আদিকাল থেকে এখন পর্যন্ত বিষয়গুলোকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

অন্যদিকে, ডেমোক্রেটরা রিপাবলিকানদের তুলনায় আরেকটু বেশি সহনশীল ও নম্র স্বভাবের। তবে নৈতিকতার দিক থেকে শক্ত। যদি কোনো রিপাবলিকান নেতা ডেমোক্রেট নেতার চেয়ে বেশি নম্রভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে ওই আসনে তার জয়লাভ খুবই সহজ হতে পারে।

লসেন আরও বলেন, গবেষণা শেষে কয়েকজন মার্কিন গবেষক নির্দেশ করেছেন, দুইজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মুখ দেখে ভোটাররা এই মানসিকতা সাপেক্ষে নেতা ‍নির্বাচনে শূন্য দশমিক এক সেকেন্ড সময় নেন।

বাংলাদেশ সময়: ০১১৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১৫
এটি/এসএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa