ঢাকা, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মনোকথা

বন্ধু কেন বানাই!

মনোকথা ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ৩, ২০১৪
বন্ধু কেন বানাই! ছবি: প্রতীকী

বন্ধু আর বন্ধুত্ব, শব্দ দু’টো লিখলেই চারপাশে বাজতে থাকে বিখ্যাত ‘শোলে’ সিনেমার সেই গান- ইয়ে দোস্তি হাম নেহি ছোড়েঙ্গে! না, আজ ছাড়াছাড়ির কথা হবে না। হবে বন্ধুর কথা, বন্ধুত্বের কথা।

কারণ আজ বন্ধু দিবস!

বন্ধু তো সবারই আছে। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছি, কীভাবে আমরা বন্ধু বানাই? আর কেনইবা আমরা বন্ধুত্ব করি!

আজ থেকে বহু বছর আগে ৩৬০ খ্রিস্টপূর্বে ‘ফিদ্রোস’ নাটকে প্লেটো লিখেছিলেন, সদৃশ্যতা বন্ধত্বের জন্ম দেয়।

এই একই কথা অ্যারিস্টোটল একটু ঘুরিয়ে বলেছিলেন, কিছু বিষয় সদৃশ্যতার। আমরা তাদেরই ভালোবাসি যারা আমাদের মতো।

বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে অভিন্ন চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি বা রুচির উপর ভিত্তি করে। অধিকাংশ বন্ধুত্ব এগোয় এমন মানুষদের মধ্যে যারা পরিবারের সদস্য বা যৌনসঙ্গী নয়। কাজেই বন্ধুত্ব বংশগতি বা যৌন আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এদিকে বিবর্তনবাদী জীব বিজ্ঞানীরা অবশ্য বন্ধুত্ব ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পারস্পারিক পরার্থপরতার উপর আস্থা রাখতে চান। সোজা বাংলায়, তুমি আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলে আমিও তোমার পিঠে হাত বুলিয়ে দেব।

কিন্তু সামাজিক মনোবিদরা আবিষ্কার করেছেন যে, মানুষ এই দেওয়া-নেওয়ার মানসিক হিসেব মেনে চলে না।

প্রিমেটোলজিস্ট জোয়ান সিল্ক ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, বন্ধুত্বে পারস্পারিকতা ও সমতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ‘ইটের বদলে পাটকেল’ তত্ত্বটি বন্ধুত্ব গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে যায় না। যদি পরস্পরবিরোধী এ তত্ত্বটি ঠিক হয়, তাহলে বিবর্তনীয় ব্যাখ্যায় বন্ধুত্ব একটি ধাঁধাঁ হিসেবে দেখা দেবে।

সম্প্রতি, একটি অস্ট্রেলিয়ান গবেষণা দল শার্ক বে-তে কাজ করেছেন। তারা তিন ধাপের একটি সামাজিক শ্রেণি আবিষ্কার করেছেন। এটি সেকেন্ড অর্ডার অ্যালায়েন্সের মধ্যে জোট। এটাকে বলা যেতে পারে থার্ড অর্ডার অ্যালায়েন্স। অথবা আরও ভালো করে বললে, সেকেন্ড অর্ডার সুপার অ্যালায়েন্স। এখানে ডলফিনগুলো সম্পর্কহীন।  
সেকেন্ড অর্ডার সুপার অ্যালায়েন্সের যোগাযোগগুলো পারস্পারিক ক্রিয়াকলাপ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, এক দল ডলফিনকে গবেষকরা বলছেন পিডি ও অন্য একটি গ্রুপকে বলছেন কেএস। ডলফিনের বন্ধুত্বের উপর একটি সামাজিক ভাব বিনিময়ের তত্ত্ব বলছে, পিডি ও কেএস কেউ কাওকে সহযোগিতা করে না।
কিন্তু তৃতীয় জোটের ক্ষেত্রে দেখলেন, ডব্লিউসি কেএস-কে আক্রমণ করছে। তার আশ্চর্য হন এই দেখে যে, পিডি আবার ডব্লিউসি-কে হারাতে কেএস এর সাহায্যে এগিয়ে আসছে।

এ থেকে দেখা যায়, ডলফিনের বন্ধুত্ব পারস্পারিক ভাবের আদান-প্রদানের উপর ভিত্তি করে নয়। তারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যমূলক।
আবার মানুষে ফিরে আসি। কারণ বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ বিকাশ মানুষের চর্চাতেই দেখা যায়। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়ে শিশুকাল থেকে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠ‍া শুরু হয়।

এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিভিন্ন উৎসব, খেলার মাঠ, সোশাল মিডিয়া, কর্মস্থল ইত্যাদি জায়গায় পরিবারের সদস্যের বাইরে অন্যান্যদের সাথে মেলা-মেশার সুযোগ ঘটে।  

প্রাথমিক শুরুটা কোনো কাজ বা ভাবের আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে পারস্পারিক চর্চার ফলে সম্পর্কের বিকাশ ঘটে থাকে।

আর বন্ধুত্ব কেনো করে থাকি, এর উত্তরে আসে- সামাজিক প্রয়োজন থেকেই আমরা বন্ধুত্ব করি। একটি বদ্ধ ঘরে একটি জানালার যে প্রয়োজন, সামাজিক জীবনে বন্ধুত্বও তাই। বন্ধুত্ব নিয়ে কত গান-গল্প-কবিতা। ব্যাপারটি তাই আবেগীয়।

বিখ্যাত লেখক হেলেন কেলারের একটি কথা দিয়ে শেষ করা যাক, আলোয় একা হাঁটার চেয়ে বন্ধুর সাথে অন্ধকারে হাঁটা অনেক ভালো।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa