ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মনোকথা

মানসিক রোগ: একটি গল্প ও কিছু কথা

ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২২৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৩
মানসিক রোগ:  একটি গল্প ও কিছু কথা

শান্ত ছোটবেলা থেকে বেশ শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে, বয়স ১৯। পড়াশুনা, খেলাধুলা কিংবা পারিবারিক পরিবেশে কখনোই তাকে খুব বেশি অশান্ত হতে দেখা যায় না।



বন্ধুবান্ধবের মাঝেও তার বেশ শুনাম আছে, নিয়ম মেনে চলা ছেলে হিসেবে। কারো সঙ্গে তর্ক না করে শুনে যাওয়ার স্বভাবটাই তাকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কিন্তু আজকাল শান্তর যেন কী হয়েছে!  শান্ত বড় বেশি অশান্ত হয়ে উঠেছে। বেশি বেশি তর্ক করছে, কারো কথাই শুনতে চায় না। সব কিছু  যেন ও’ই বেশি বোঝে। অনবরত বক্ বক্ করে কথা বলেই যাচ্ছে। এই করবো, সেই করবো। আর নিজের বিভিন্ন ক্ষমতার বাহাদুরিতো চলছেই।

ঘরে থাকার ইচ্ছেও যেন তার ফুরিয়ে এসেছে, সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ায়। খাওয়া দাওয়ার খবর নেই। নতুন নতুন জিনিসপত্র-জামা কাপড় আর মোবাইল কেনা যেন নেশা হিসেবে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। দেধারসে পয়সা খরচ করছে। শান্তর এমন আচরণে ক্লান্ত বাবা-মাও।

কি হয়েছে শান্ত নামের চিরচেনা এই শান্ত ছেলেটির? কেন এমন করছে সে!

ওপরের গল্পের, এই ছেলেটি সম্পর্কে সাধারণ মনোভাব কী হতে পারে?
-    ছেলেটি বখে গেছে?
-    দিনে দিনে বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে?
-    বাজে ছেলেদের সঙ্গে মিশতে মিশতেই ছেলেটি এমন হয়ে যাচ্ছে?
-    ইচ্ছেমতো পেটালেই সব ঠিক হয়ে যাবে!
-    জ্বিন ভূতের প্রভাব পড়েনি তো?

এমন অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না। চারদিক থেকে আরো অনেক পরামর্শ আসতে পারে। সবাই সাহায্য করতে চায় সত্যি। কিন্তু এসব কি শান্ত’র বর্তমান অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন!

এই যখন অবস্থায় তখন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ-
একজন ব্যক্তি শান্ত বা চঞ্চল যেমন স্বভাবেরই হোক না কেন এটা একজনের গড়ে উঠা ব্যক্তিত্বের বিষয়, যা হঠাৎ পরিবর্তিত হতে পারে না। যদি হঠাৎ করেই কারো গড়ে এমন ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন দেখা যায়, অর্থাৎ শান্ত মানুষ হঠাৎ চঞ্চল হয়ে ওঠে কিংবা চঞ্চল মানুষ হঠাৎ শান্ত হয়ে যায়, তবে অবশ্যই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শান্তর মানসিক অবস্থার এই পরিবর্তন শুধু শুধু হয়নি সেটাও বুঝতে হবে।

কি হতে পারে?
শান্ত যাদের কথা শুনতো, মানতো, তাদের কথাও যেহেতু শুনছে না, তখনই বুঝতে হবে এটা সাধারণ উপদেশের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

তবে এটাও খুঁজে দেখা উচিৎ সে নেশা করছে কিনা, খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশছে কিনা। যদি নেশা করে থাকে, তবে অভিভাবকদের উচিৎ বিষয়টি দ্রুত মেনে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা। অনেকে শুরুতে বিষয়গুলো মেনে না নিয়ে বিভিন্নভাবে বিষয়টির সমাধান চান। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে, পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত কিছু কিছু মানসিক রোগের সরাসরি প্রভাবেও এমন হতে পারে। সেখানে কারো হাত নেই। অনেকে বিষয়গুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনা বা পরিস্থিতিকে মেলাতে চান। সমাধানের রাস্তা খোঁজেন, তাতেও পরিস্থিতি জটিল হয়। কেননা, বিষয়টি যদি রোগ হয়, তবে কোনো ব্যবস্থাতেই কাজ হবে না, যতক্ষণ সঠিক চিকিৎসা না করা হয়।

যেসব রোগের (মানসিক) কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে।
-    বাই পোলার এফেকটিভ ডিজঅর্ডার
-    সিজোফ্রেনিয়া (প্রাথমিক পর্যায়)
-    সাইকোসিস (অনির্ধারিত)
-    নেশা বা মাদকাসক্তি,
-    ব্রেন বা মস্তিষ্কের সরাসরি কোনো সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপন না করে, অবশ্যই এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৩
এসএটি/এমজেডআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa