bangla news
প্রার্থী কথা

এমপি নির্বাচিত হলে এলাকায় থাকবেন মোকছেদ

জনি সাহা, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৮-১৭ ৩:৫৩:১৩ এএম
নিজ কার্যালয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ

নিজ কার্যালয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ

গাইবান্ধা থেকে: সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিরা কেউ আর এলাকায় থাকতে চান না। এমন অভিযোগ তৃণমূলের সাধারণ মানুষজনের। সেক্ষেত্রে জনগণের এ চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যতিক্রমী চিন্তা করছেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ।

তিনি বলেছেন, গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাজধানীতে অবস্থান করবেন। বাকি সময় এলাকায় থেকে জনগণের সেবা করবেন।
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলানিউজের বিশেষ আয়োজন ‘প্রার্থী কথা’য় নিজ কার্যালয়ে  আলোচনায় রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সদা হাস্যোজ্জ্বল এ রাজনীতিবিদ। আলোচনায় তিনি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ জনগণের সমস্যা-সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
 
এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে আগ্রহী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়িতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী কোনো উন্নয়ন করেননি। দীর্ঘ সময় এলাকার মানুষ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
 
এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সময় এলাকায় শিক্ষা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, গরিব মানুষদের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন।
 
৯২ সাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা মনে ধারণ করছেন। পরেরবার ৯৬ সালে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত হাই কমান্ডের নির্দেশে সরে দাঁড়ান। তবে আগামী নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
                                     
নির্বাচনে জয়ী হতে রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিদ্যুৎ। পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার বিষয়ে অন্য সবার চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন এ রাজনীতিক। এজন্য তিনি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি সারছেন।
 
পলাশবাড়িতে এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে নিজ কার্যালয়ে সকাল-বিকেল নিয়মিত বসেন। সেখানে মানুষের কথা শোনেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।
 
এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা পাশে থাকবেন বলেও প্রত্যাশা তার।
 
রাজনীতির পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুতের। ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির পর বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবে তার ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
 
তিনি বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের খবরের পর আমি কার্যালয়ে বসেছিলাম। একপর্যায়ে কর্মীরা আমাকে বাসায় চলে যেতে বলে। কিছু একটা আঁচ করতে পেরে আমি পরিবারের লোকজনকে বের করে নিয়ে আসি। পরে আমার বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেয় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির নিন্দা জানান।
 
ব্যবসায়িক আয় দিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর কথা উল্লেখ করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বলেন, এলাকায় থাকলে লোকজন ভরসা পায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে আপন মনে করে। তাই এমপি হলে শুধু সংসদ চলাকালে ঢাকায় অবস্থান করবেন। আর মনোনয়ন না পেলে হাই কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার কথা বলেন তিনি।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১৭
জেডএস/এসএইচ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   নির্বাচন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মাঠে-ঘাটে ভোটের কথা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2017-08-17 03:53:13