ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মালয়েশিয়া

‘সকল খরচ ভিসার পর’, এরপর মালয়েশিয়ার গোডাউন

মাজেদুল নয়ন ও সাজেদা সুইটি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৯ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০১৪
‘সকল খরচ ভিসার পর’, এরপর মালয়েশিয়ার গোডাউন

কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়া আসার সামর্থ্য না থাকলেও আগ্রহীদের জন্য ফাঁদ কিন্তু ঠিকই তৈরি হয়ে রয়েছে। ‘সকল খরচ ভিসার পর’- এমন বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়া আসেন যারা, তাদের বেশিরভাগেরই ঠিকানা হয় এদেশের ‘গোডাউন’গুলোতে।



এই গোডাউনে তারা ততদিনই আটকে থাকেন, যতদিন পর্যন্ত কেউ তাদের পক্ষ হয়ে আটককারীদের চাহিদামাফিক টাকার যোগান না দেয়।
 
বিশ্বাস করে ঠকা এমনই একজন হলেন বাংলাদেশের আবদুর রব।

বাংলাদেশের এজেন্ট তাকে বলেছে, পাসপোর্ট আর ‘টুকটাক খরচ’ই শুধু লাগবে, এছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই। ভিসা হলে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে টাকা দিলেও চলবে। এই ‘টুকটাক খরচ’ বাবদ  নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

এত কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ মাটি করতে চান না অনেকেই। একবার মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো গেলে পরে আরো এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করাই যায়। এসব চিন্তা থেকেই ৫০ হাজার টাকা খরচ দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আব্দুর রবও।

স্টুডেন্ট ভিসায় আনা হয় তাকে। সঙ্গে একই এজেন্টের আরও ১৭ জন। তাদের পড়ালেখা সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণী।

২০১২ সালের এপ্রিলে কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে এসে নামেন তিনি। এজেন্টের কথামতো এয়ারপোর্টে অপেক্ষারত দালালের হাতে পাসপোর্ট তুলে দেন রব। এরপরই তাদের ঠিকানা হয় আবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত একটি স্থানে, যাকে বলা হয় গোডাউন।

এয়ারপোর্ট থেকে পাহাংয়ের কোন এক জঙ্গলের গোডাউনে রাখা হয় এই ১৮ জনকে। আটককারীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ১৮ জনেরই দেশের বাড়িতে। প্রত্যেকের জন্য কমপক্ষে দুই লক্ষ করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

একে একে সবার বাড়ি থেকেই সেই টাকা পাঠানো হয়, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়।

এক সময় চোখ বেঁধে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় জঙ্গলেই। অনেকের সঙ্গের জিনিসপত্র, এমনকি পরনের কাপড়ও নিয়ে নেওয়া হয়।

কেউ কেউ কোনো ভালো মানুষের সাহায্য পেয়ে যান, কাজ পান, স্বাভাবিক একটি জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

কিন্তু অনেককেই আবার ফিরে যেতে হয় দেশে। এই ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায়ও খরচ হয়ে যায় পরিবারের মোটা অংকের টাকা। অনেকেই বিক্রি করেন শেষ সম্বল, জমি বা ভিটেবাড়ি।

যারা এদেশেই থাকেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আবার জেলেও যাচ্ছেন। সেখানে রয়েছে মালয় পুলিশের ঘুষের কারবার। বড় অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পান কখনা সখনো।

অথচ এখানে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশিরা জানান, একটু সচেতন হলেই কম খরচে বৈধভাবে মালয়েশিয়া আসার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশিদের। প্রথম দিকে একটু বেশি খাটুনি করতে হয়, কিন্তু যারা বৈধভাবে আসেন, তারাই একটা সময় ভালোভাবে থাকতে পারেন।

এখানে বসবাসকারী প্রচুর বাংলাদেশি ভালো অবস্থানে রয়েছেন। বৈধভাবে আসা দেশের মানুষকে অনেকেই সাহায্য করতে এগিয়েও আসেন। কিন্তু অবৈধভাবে এলে তাদের জন্য তেমন কিছু করার সুযোগ থাকে না বা নিজেদের ঝুঁকি বাড়বে বলে অনেকেই কিছুই করতে পারেন না।
 
এমনই একজন অ্যাডভোকেট রাজু আহমেদ। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, চাইলেই বৈধভাবে এদেশে আসা যায়। তারা ঝামেলায় পড়লে আমরা সাহায্যও করতে পারি। কিন্তু অবৈধভাবে এলে তাদের বাঁচাতে গেলে হিতে বিপরীত হয় অনেক সময়।

তিনি বলেন, এখন মালয়েশিয়া আসার খরচও অনেক কম। তাই অসাধু দালালের খপ্পরে না পড়ে নির্ভরযোগ্য উপায়েই মালয়েশিয়া আসা উচিত।
রাজু আরও বলেন, যে কেউ পরিবার নিয়েও এখানে আসতে পারে। একজন গৃহপরিচারিকাও রাখতে পারেন বাংলাদেশের। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা তখনই পাওয়া যাবে, যখন বৈধভাবে আসা হবে।

 

Nayan_Sweety_01

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ সময়: ১১২৭ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa