ঢাকা, রবিবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

লন্ডন

ক্যামেরনের সঙ্গে দেখা করে সমস্যা জানালেন বাঙালিরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৫৩ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৬
ক্যামেরনের সঙ্গে দেখা করে সমস্যা জানালেন বাঙালিরা

লন্ডন: দক্ষ কর্মীর অভাবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সংকটসহ অভিবাসন নীতিতে সৃষ্ট নানা সমস্যার কথা জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে সমাধান চেয়েছেন লন্ডনের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

 

গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ক্যামেরনের আমন্ত্রণে তার কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে বিস্তর আলোচনার পর এ সমাধান চান ব্যবসায়ীরা।

 

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিনিউটি ব্যক্তিত্ব এনাম আলীর নেতৃত্বে ক্যামেরনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও ছিলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহনুর খান, থেমস ভ্যালি গিল্ড অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল মুহাইমিন মিয়া, রেস্টুরেন্ট সাপ্লায়ার কোম্পানি এশিয়াটিক লিমিটেডে ডিরেক্টর সফিকুল ইসলাম, চিলি পিকল রেস্টুরেন্টের ডিরেক্টর স্পেরিং, দাব্বাঅয়ালের ডিরেক্টর শাহ জুলফিকার আলী, টিভি উপস্থাপক ও রেস্টুরেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ে বিশেষজ্ঞ ড. সানাউয়ার চৌধুরী, কাউন্সিলর ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হক এবং ফ্রেঞ্চাইস রেস্টুরেন্ট গ্রুপের ডিরেক্টর বশীর আহমেদ।

শুক্রবার (২০ মে) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ শেফ ও অন্যান্য স্টাফ সংকটের কারণে প্রতি সপ্তাহে দু’টি করে রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে ব্রিটেনের কারিশিল্প এক সংকটময় সময় পার করছে। কারিশিল্পভিত্তিক রেস্টুরেন্টগুলোর বেশিরভাগ মালিক বাংলাদেশিরা। এজন্য আরও কিছু কঠিন শর্ত আরোপ করে হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে থেকে স্টাফ আনার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী বা শর্ট টার্ম ওয়ার্ক পারমিট প্রচলন করে সরকার যুক্তরাজ্যের  ৪২০ কোটি পাউন্ডের এ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সমস্যার সমাধানে জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যদি তাদের দাবি অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদী ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রচলন হয়, তবে বাংলাদেশই লাভবান হবে বেশি, কারণ দেশ থেকেই কারিশিল্পের স্টাফের জোগান দেওয়া হতো একসময়। কিন্তু ভিসার কড়াকড়ি আরোপের ফলে এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঘাত ঘটছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শেফ তৈরি যুক্তরাজ্যে বেশ সময়সাপেক্ষ। তাছাড়া, এখানকার লোকজন ভিনদেশি একটি শিল্পে বিশেষ করে এশিয়ান মসলা/স্পাইসযুক্ত রান্নাঘরে এখনও উপযোগী হতে পারছে না। এ অবস্থায় কারিশিল্প বাঁচিয়ে রাখার জন্য  অতি দ্রুত একটি সমাধান আবশ্যক বলে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে বোঝানো হয়েছে।

বাংলাদেশি এ ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১-৩ বছর মেয়াদী এমন শর্ট টার্ম ওয়ার্ক পারমিট ভিসা চালুর দাবি জানিয়েছেন, যেখানে প্রয়োজনে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ না থাকা, মেয়াদ শেষ হলে এদেশে আর ফিরে আসার সুযোগ না থাকা, কোনো ধরনের বেনিফিটের সুযোগ না থাকা, নিয়োগকর্তা কর্তৃক স্বাস্থ্যের ইনস্যুরেন্স না করার বিধান, পরিবার আনার সুযোগ না থাকা এবং স্পন্সরকৃত নিয়োগ কর্তা ছাড়া কাজের সুযোগ না থাকার মতো কঠিন শর্ত আরোপেও অনাপত্তির কথা বলা হয়েছে।

তারা জানান, ক্যামেরনকে এটাও বোঝানো হয়েছে যে, এ ধরনের ভিসা বিশ্বে নতুন নয়। মধ্যপ্রাচ্য, জার্মানি ও আমেরিকায় এমন ভিসার প্রচলন আছে। এ ভিসা চালু হলে তারা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হবেন না বা ব্রিটেনের মানুষের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা হবেন না। বরং বিভিন্ন দেশের স্টাফের নানা ধরনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শুধু এ ব্যবসা রক্ষাই নয়, কারির স্বাদের গুণগত মানেরও উন্নতি সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪০ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৬
এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa