ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

লন্ডন

ডা: বি বি চৌধুরীর জন্য নাগরিক শোকসভার উদ্যোগ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৩৭ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৬
ডা: বি বি চৌধুরীর জন্য নাগরিক শোকসভার উদ্যোগ

লন্ডন: লন্ডনের সর্বজনশ্রদ্ধেয় মানবতাবাদী নেতা ডা: বি বি চৌধুরীর মৃত্যুতে নাগরিক শোকসভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি সদ্য প্রয়াত বেনু ভূষণ চৌধুরী স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় উপস্থিত হয়ে কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই নাগরিক শোকসভা উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেন।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান শরীফ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, নির্মূল কমিটি নেতা আনসার আহমেদ উল্লা, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, জামাল খান, আওয়ামী লীগ নেতা জোবায়ের আহমেদ, সিপিবি নেতা মশুদ আহমেদ, সত্যব্রত দাশ স্বপন, আপ্তাব আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলার শাহাব উদ্দিন বেলাল, সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, এডভোকেট আবিদ আলী, নারীনেত্রী নাজনিন সুলতানা শিখা, স্মৃতি আজাদ, রুবি হক, নাজমা রহমান, কবি মুজিবুল হক মণি ও কলামিষ্ট আব্দুল আজিজ তকি প্রমুখ।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরী সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রয়াত বেনু ভুষণ চৌধুরীর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা কমিউনিটি সেবায় ড: চৌধুরীর বিশাল ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর সেবা কার্যক্রম নিজের কর্মক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো পুরো কমিউনিটিতে। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কমিউনিটির সেবা করতে গিয়ে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে মানবতাবাদী এই চিকিৎসককে।  

বক্তারা প্রয়াত ডা: বেনু ভূষণ চৌধুরীকে মানবতার প্রতীক আখ্যায়িত করে বলেন, মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি ছিলেন খুবই কাছের একজন বন্ধু। ব্রিটেনে থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্থান-পতনে বাংলাদেশের পাশে থাকার চেষ্টা করতেন বি বি চৌধুরী--এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, স্বৈরাচার, বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে ডা: বেনু ভুষণ চৌধুরী ছিলেন একজন লড়াকু সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করতেন তিনি। ব্রিটেনে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও ড: চৌধুরী ছিলেন সোচ্চার।  

সভায় প্রয়াত বেনু ভুষণ চৌধুরী স্মরণে একটি নাগরিক শোকসভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, তৎকালীন হাতেগোনা যেক’জন বাঙালি জিপি (ডাক্তার)ছিলেন, তাদের মধ্যে বেনু ভূষণ চৌধুরীই একমাত্র ব্যতিক্রম। যার কর্মপরিধি নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিজের এলাকার বাইরে গিয়েও রাত বিরেতে তিনি সেবা দিয়েছেন রোগিদের। মৃত্যুর পর তাঁর রোগিদর মধ্যে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সেই শোক ভাগাভাগি করে নিতেই প্রয়োজন একটি নাগরিক শোকসভার।

ডা: বেনু ভূষণ চৌধুরী একক কোন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ছিলেন না, তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, এমন মন্তব্য করে সভার ঘোষনায় বলা হয়, কমিউনিটির সম্পদ এই প্রতিষ্ঠানকে প্রজন্মান্তরে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ। আর এই উদ্যোগের সূচনাই হবে তাঁর স্মরণে নাগরিক শোকসভা।  

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লাকে আহবায়ক ও যুবনেতা শাহরিয়ার বিন আলীকে সদস্যসচিব করে একটি নাগরিক শোকসভা কমিটি ঘোষণা করা হয় বুধবারের সভায়।  

উল্লেখ্য, গত ১লা মে, রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বি বি চৌধুরী নামে পরিচিত ডা: বেনু ভুষণ চৌধুরী। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।

লন্ডনে দীর্ঘদিন জিপি'র (ডাক্তার) দায়িত্ব পালনকালীন প্রবীণ এই চিকিৎসক কমিউনিটির সাধারণ মানুষের উপকারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তখনকার সময়ে হাতে গোনা যেকজন বাঙালী ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস) জিপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ড: চৌধুরী ছিলেন তাদের অন্যতম। দেশ থেকে ভ্রমণে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া বা চিকিৎসার জন্য আসা অনেকেই বিভিন্ন সময় ড: চৌধুরীর সহায়তায় ব্রিটেনের উন্নত চিকিৎসাসেবা লাভ করেছেন। কমিউনিটির সাধারণ মানুষদের সেবা দিতে গিয়ে বর্ণবাদী হামলার শিকারও হতে হয়েছে তাঁকে।  

মাতৃভূমি বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্যোগ দু:সময়ে যে ক’জন কমিউনিটি-নেতা অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পাশে দাঁড়াতেন ড: চৌধুরী ছিলেন তাদের একজন। সরকারী চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার পর সার্বক্ষণিক রাজনীতি ও সমাজকর্মে মনোনিবেশ করেন এই নেতা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতিসহ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টসের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এই নেতা। বিগত কয়েক বছর ধরে মাতৃভূমির গরীব জনগণের সেবার লক্ষ্য নিয়ে সারা জীবনের অর্জন সবকিছু মূলধন করে বাংলাদেশে হাসপাতালসহ বিভিন্ন ধরনের সেবাপ্রতিষ্ঠান গড়ার চেষ্টায় বাংলাদেশে তিনি ছিলেন বিরামহীনভাবে কর্মরত। এই অবস্থায়ই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন ডা: চৌধুরী।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৩৫ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৬

জেএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa