ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

লন্ডন

বাংলাদেশের অর্জনে অনুপ্রাণিত টিউলিপ মুখোমুখি ক্যামেরনের

সৈয়দ আনাস পাশা, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১৫
বাংলাদেশের অর্জনে অনুপ্রাণিত টিউলিপ মুখোমুখি ক্যামেরনের টিউলিপ সিদ্দিক ও ডেভিড ক্যামেরন

লন্ডন: বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে সন্তানের বিয়ের সনদে বাবার সঙ্গে মায়ের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা জানতে চেয়েছেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস অব কমন্সে (নিম্নকক্ষ) প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে টিউলিপ এ কথা জানতে চান।

নারীর এ অধিকার বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়ে কথা বলেছেন বলে পরে বাংলানিউজকে জানান তিনি।

টিউলিপ পার্লামেন্টে বলেন, ‘লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে আমার ও সরকারের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য থাকলেও গত বছর ম্যারেজ সার্টিফিকেটে (বিয়ের সনদ) বাবার সঙ্গে মায়ের নাম উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু এ বিষয়টির বাস্তবায়ন কতোদূর, তা কিন্তু এখনও জানতে পারিনি আমরা’।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্মদানের সঙ্গে সঙ্গেই আমি তার বাবার সমমর্যাদার অধিকার চাই তার (সন্তান) ওপর’।

টিউলিপ জানতে চান, নারীকে ইতিহাসের বাইরে রাখা বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি-না?

তার বক্তব্যের পর ডেভিড ক্যামেরন এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এ বিষয়ে একটি নতুন আইনের প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ’

ব্রিটেনের বর্তমান আইনে মায়ের নাম সন্তানের বিয়ের সনদে লেখার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে কেবলই বাবার নাম উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। গত বছর এটি পরিবর্তনের জন্য একটি প্রচারণা শুরু হলে ৭০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়। এরপর এ নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হলে শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ওঠে বিষয়টি।

সংসদে কথা বলার পর এক প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ বাংলানিউজকে জানান, এমন একটি ইস্যু নিয়ে কথা বলার বিষয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে তিনি দায়বদ্ধ হলেও প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে তিনি প্রেরণা পেয়েছেন বাংলাদেশকে দেখে।

টিউলিপ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যদি ম্যারেজ সার্টিফিকেটে বাবা-মা দু’জনের নাম থাকতে পারে, তাহলে ব্রিটেনে কেন নয়?’

এক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন টিউলিপ। তিনি বলেন ‘বাংলাদেশ অবশ্যই অনেক দেশের অনুপ্রেরণা হতে পারে’।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১৫
এইচএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa