ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লন্ডন

উদ্দেশ্য ছিল জাতির জনকের আদর্শকে হত্যা করা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৬ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১৫
উদ্দেশ্য ছিল জাতির জনকের আদর্শকে হত্যা করা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

লন্ডন: ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. আব্দুল হান্নান বলেছেন, শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পৃথিবীর অন্যতম নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়নি, তাদের উদ্দেশ্যে ছিল আমাদের জাতির জনকের আদর্শকে চিরতরে হত্যা করা।

তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য থাকলে ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো পথে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো না।



সদ্যনির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বিজয়ের মহানায়ক’-এর প্রশংসা করে হাইকমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে এই প্রামাণ্যচিত্রটি নতুন প্রজন্মসহ সবার দেখা প্রয়োজন।

মাত্র ৫৩ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন খণ্ডচিত্রের মতো উঠে এসেছে, এমন মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।

বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা ও ‘বিজয়ের মহানায়ক’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার এ সব কথা বলেন।

যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক ইসহাক কাজলের সভাপতিত্বে ও সহসাধারণ সম্পাদক জামাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির কোষাধ্যক্ষ শাহ বেলাল।

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, সৈয়দ আনাস পাশা, আজিজ চৌধুরী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এনামুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা আফসার খান সাদেক।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার প্রেস নাদিম কাদির, ‘বিজয়ের মহানায়ক’-এর পরিচালক মঈনুল হোসেইন মুকুল, প্রযোজক সালিমা শারমিন চৌধুরী, সাংবাদিক নীলু হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজন্তা দেব রায়, কামরুল ইসলাম তুষার, যুবনেতা মতছির চৌধুরী জনি ও আলী আকবর চৌধুরী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার আব্দুল হান্নান আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চিরতরে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ৭৫ থেকে ৯৬ এই দীর্ঘ ২১ বছর অনেক অপচেষ্টা করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলেও তাতে তারা পুরোপুরি সফল হতে পারেননি।

তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু, সেই স্বপ্ন বাঙালি জাতির শেকড়ে এমন শক্তভাবে প্রোথিত করেছিলেন তিনি, যা সহজে উপড়ে ফেলতে পারেনি দেশিয় ও আন্তর্জাতিক পৃষ্টপোষকতাপ্রাপ্ত এই ষড়যন্ত্রকারীরা।

হাইকমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্থান বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়। আর তাইতো দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে শেখ হাসিনার আপসহীন বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করে হাইকমিশনার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চলমান সংগ্রামে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বই প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধুর রক্তই বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১৫
এবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa