ঢাকা, শনিবার, ৯ মাঘ ১৪২৭, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লন্ডন

ব্রিটেনের নিখোঁজ বাংলাদেশি পরিবার

‘আইএস জঙ্গিরাই তাদের সিরিয়ায় ধরে নিয়ে গেছে’

সৈয়দ আনাস পাশা, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১৫
‘আইএস জঙ্গিরাই তাদের সিরিয়ায় ধরে নিয়ে গেছে’

লন্ডন: ব্রিটেনের লুটন শহরে বসবাসরত নিখোঁজ বাংলাদেশি পরিবারের ১২ সদস্য স্বেচ্ছায় সিরিয়ায় যাননি। বাংলাদেশ থেকে ফেরার পথে ইস্তাম্বুলে হোটেল থেকে আইএস জঙ্গিরা তাদের কৌশলে সিরিয়ায় তুলে নিয়ে গেছে।



বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) আইটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই দাবি করেছেন নিখোঁজ পরিবারের প্রধান ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মান্নানের ছেলে সালিম হোসেইন।

তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বেচ্ছায় সিরিয়ায় গিয়েছেন এবং ভালো আছেন আইএস জঙ্গিদের এমন বিবৃতিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

আইটিভি’র ইউকে এডিটর রুহিত কাচরোকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সালিম হোসেইন জানান, সিরিয়ায় থাকা তার বাবার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কৌশলে জোড়পূর্বক আইএস জঙ্গিরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে।

সালিম জানান, বেশ কয়েকবারই বাবার সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং প্রতিবারই ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

আইটিভি এডিটরের সঙ্গে কথা বলার সময় সালিম নিজেও কাঁদছিলেন। তিনি জানান, তার বাবা আব্দুল মান্নান তাকে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ফেরার পথে ইস্তাম্বুলে হোটেল থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় আইএস জঙ্গিরা।

তার বাবার ভাষ্যমতে, পাসপোর্ট চেক করার নামে কয়েকজন লোক হোটেল কক্ষে ঢুকে আব্দুল মান্নান ও মিনারা খাতুনের কাছ থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের আলাদা করেন। এরপর একে একে তাদের নিচে নামিয়ে আনেন। সব শেষে আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রীকে রুমে রেখে তারা বলেন, তোমরা এখন ব্রিটেন ফিরে যাও।

কিন্তু ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনিদের ফেলে তারা ব্রিটেনে আসতে রাজি না হলে, তাদেরও নিচে নামিয়ে আনা হয়। এরপর হোটেলের সামনে থাকা একটি ভ্যানে জোড়পূর্বক তুলে তাদের সিরিয়া নিয়ে যায় আইএস জঙ্গিরা।

তিনি বলেন, আমার বয়োবৃদ্ধ বাবা কনফিউজড। শান্তিতে নেই তিনি। টেলিফোনে কথা বলতে গেলেই শুধু কাঁদেন।

বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ব্রিটেন ছাড়ার আগে পরিবারের কোনো সদস্য আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলো কিনা বা কাউকে এমন সন্দেহ করেছিলেন কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে সালিম হোসেইন বলেন, মোটেই না। আমি যদি সামান্যতমও সন্দেহের কিছু দেখতাম তাহলে তাদের যেতে দিতাম না। তাছাড়া পুলিশও এখন পর্যন্ত সন্দেহের কিছুই পায়নি। পরিবারের কোনো সদস্যের জঙ্গিদের সঙ্গে লিংকের কোনোই প্রমাণ নেই।

আইএস জঙ্গিরা সিরিয়া থেকে যে বিবৃতি প্রচার করেছে, সেখানে তার বাবার জঙ্গিদের সিম্বল আঙ্গুল উঁচু করা একটি ছবিও আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আইএস জঙ্গিদের প্রতি সমর্থনসূচক কোনো বিষয় নয়। এটি জঙ্গিদের কৌশল, প্রপাগাণ্ডা।

আইটিভি ইন্টারভিউয়ে সালিম আবেগপ্রবণ হয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি ফিরে আসার জন্য আবেদন জানান। তিনি বলেন, প্লিজ তোমরা ফিরে এসো। আমরা খুবই কষ্টের সঙ্গে  তোমাদের মিস করছি। আমাদের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার মতো ভাষাও নেই, বুকের মধ্যে শুধুই শূন্যতা, হারানোর শূন্যতা। তোমাদের ছাড়া সবকিছুই আমাদের হারিয়ে যাওয়ার মতো।

এদিকে, ১২ সদস্যের পরিবারটি নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও টার্কিস অথরিটির সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের এক মুখপাত্র।

তিনি বলেন, সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার জন্য আমাদের নাগরিকদের নিষেধ করা হয়েছে। সিরিয়ার সঙ্গে ব্রিটেনের সব কনস্যুলার সার্ভিস বন্ধ থাকায় এই মূহূর্তে ব্রিটিশ নাগরিক এই পরিবারটি কোথায় রয়েছে, তা বলা খুবই কঠিন। কেউ যদি কোনো কারণে এই মূহূর্তে এইসব অঞ্চল ভ্রমণে যান, তবে বুঝতে হবে, তিনি নিজেকে বিপদের মধ্যেই সমর্পন করছেন।

ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের এই মুখপাত্র আরও বলেন, কেউ যদি ব্রিটেনের বাইরে কোনো জঙ্গিগ্রুপকে সমর্থন করার পর আবার ব্রিটেনে ফিরে আসেন তাহলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১৫
আরএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa