ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ সফর ১৪৪৩

লন্ডন

দিস ক্রিমিনাল ওয়াজ আওয়ার নেইবার!

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০১৫
দিস ক্রিমিনাল ওয়াজ আওয়ার নেইবার! চৌধুরী মাঈনুদ্দিন

লন্ডন: মাঈনুদ্দিনের মতো একজন ভয়ঙ্কর গণহত্যাকারী তাদের প্রতিবেশী ছিল জেনে আতঙ্কে শিউরে উঠেছেন একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল নায়ক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মাঈনুদ্দিনের এক সময়ের প্রতিবেশীরা।

এক্সট্রাডিশন ক্যাম্পেইন-ইউকে’র পক্ষ থেকে চৌধুরী মাঈনুদ্দিনের আবাসস্থল নর্থ লন্ডনের জেনসন রোডে তার পরিচয় সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করতে গেলে অধিবাসীদের মধ্যে এই আতঙ্ক দেখা যায়।



ক্যাম্পেইন কমিটির অন্যতম সংগঠক অজন্তা দেব রায় বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এমন একজন ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধী তাদের প্রতিবেশী ছিল জানতে পেরে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন। একজন প্রতিবেশীতো ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠেন, ওহ মাই গড, দিস ক্রিমিনাল ওয়াজ আওয়ার নেইবার।

ক্যাম্পেইন কমিটির আরেক নেতা সৈয়দ এনামুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা আমাদের ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে মঈনুদ্দিনের আবাসস্থল নর্থ লন্ডনের জেনসন রোডে গেলে স্থানীয় অধিবাসীদের এভাবে আতঙ্কে শিউরে উঠতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, যদিও মঈনুদ্দিন এখনও এ এলাকায় বসবাস করে জেনেই আমরা স্থানীয় জনগণকে এই যুদ্ধাপরাধী সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি, তিনি বছর দুয়েক আগেই এখানকার বাড়ি বিক্রি করে অন্য এলাকায় চলে গেছেন।

আমাদের ধারণা, যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পরই দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীদের সামনে নিজের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

এনাম জানান, যে মসজিদে মঈনুদ্দিনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল, সেই আয়েশা মসজিদেও  গিয়েছিলেন তারা। মসজিদের অনেক বাঙালি-অবাঙালি মুসল্লিও মঈনুদ্দিনের পরিচয় পেয়ে আতঙ্কে শিউরে উঠেছেন।

তিনি বলেন, আতঙ্কে শিউরে ওঠা এমন একজন অবাঙালি মুসলমানের নাম জানতে চাইলে ভয়ে তিনি তার নাম প্রকাশ করতেই রাজি হননি।

তার ধারণা, ইসলামের নামে গণহত্যাকারী এমন একজন ভয়ঙ্কর ক্রিমিনালের এখনও হয়তো সিরিয়া-ইরাকের আইএস, আইএসআইএস বা আলকায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। নাম প্রকাশ করলে এদের দ্বারা তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে বলে তার আশঙ্কা।

আয়শা মসজিদে লিফলেট বিলি করতে গেলে মঈনুদ্দিনের একজন অনুসারী দ্বারা কিছুটা বাধাগ্রস্তও হয়েছেন তারা- এমনটি জানিয়ে এক্সট্রাডিশন ক্যাম্পেইন কমিটির সংগঠক সৈয়দ এনাম বলেন, আসলে এমন কিছু অন্ধ অনুসারী দিয়েই তাঁর উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ব্রিটিশ মুসলমানদের উপরও চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মাঈনুদ্দিন। বাংলাদেশে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ায় তাঁর সেই চেষ্টা হয়তো এখন অনেকটাই অকার্যকর।
 
একাত্তরে চৌধুরী মাঈনুদ্দিনের গণহত্যাকারীর ভূমিকা বর্ণনা দিয়ে তার ছবি সম্বলিত লিফলেট জেনসন রোডসহ লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করছেন এক্সট্রাডিশন ক্যাম্পেইন কমিটির কর্মীরা।

মঈনুদ্দিনের কিছুদিন দিন আগের আবাসস্থল জেনসন রোডের প্রতিটি ঘরে ঘরে এই লিফলেট বিলির সময় অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এই যুদ্ধাপরাধীর ইতিহাস শোনেন। প্রতিবেশীরা এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধীকে অবিলম্বে ব্রিটেন থেকে বের করে দেয়া জরুরি মন্তব্য করে তিনি কিভাবে পরিচয় গোপন করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেলেন তা তদন্তের উপরও গুরুত্বরোপ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa