ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২৫ জুন ২০১৯
bangla news

ঈদের জমকালো পাঞ্জাবি

|
আপডেট: ২০১১-০৮-২৭ ৪:১৪:৪৭ এএম

ঈদ আয়োজনের একটা বড় অংশ হল ঈদের কেনাকাটা করা। মেয়েদের ঈদের কেনাকাটা ইতিমধ্যেই শেষ। মার্কেটে ভিড় বাড়ছে ছেলেদের। কারণ একটাই, ঈদে ছেলে-বুড়ো সবার চাই নতুন পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবি ছাড়া ছেলেদের ঈদ ভাবাই যায় না।

ঈদ আয়োজনের একটা বড় অংশ হল ঈদের কেনাকাটা করা। মেয়েদের ঈদের কেনাকাটা ইতিমধ্যেই শেষ। মার্কেটে ভিড় বাড়ছে ছেলেদের। কারণ একটাই, ঈদে ছেলে-বুড়ো সবার চাই নতুন পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবি ছাড়া ছেলেদের ঈদ ভাবাই যায় না।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের এই আনন্দকে আরো বেশি জাঁকজমক করে তুলতে ছেলেদের ঈদ বাজেটের একটা বড় অংশ বরাদ্দ থাকে পাঞ্জাবির জন্য। ঘরে-বাইরের এবারের আয়োজন ছেলেদের এই অন্যতম পোশাক নান্দনিক পাঞ্জাবি নিয়েই। পাঞ্জাবির চলতি ফ্যাশনসহ বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জন্য।
 
ঈদে চাই দেশি পাঞ্জাবি : আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধারক হল পাঞ্জাবি। ঈদে তো অবশ্যই যে কোন উৎসব বা পার্বণে পাঞ্জাবির বিকল্প নেই। তাইতো বাঙালির এ আদুরে পোশাকটিকে ঘিরে আগ্রহ আড়ম্বরতা সবসময়ই বেশি। ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বরাবরের মতো সাজিয়েছে পাঞ্জাবির পসরা। পাঞ্জাবি যেন হয়ে উঠেছে ডিজাইনারের সাদা ক্যানভাস। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাঞ্জাবির সংগ্রহে থাকছে নতুন নকশা, নতুন রং। কাটিংয়েও এসেছে পরিবর্তন, বাজার দখল করে আছে শর্ট আর সেমি লং পাঞ্জাবি। ঈদের পাঞ্জাবি নিয়ে কথা বলেছিলাম দেশীয় ফ্যাশন হাউস রঙের কর্ণধার ও বিশিষ্ট ডিজাইনার বিপ্লব সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদ মানেই একটু জমকলো পাঞ্জাবি। তবে সম্ভব হলে ঈদের নামাজের জন্য হালকা কজের চোখে প্রশান্তি এনে দেয় এমন পাঞ্জাবি, বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পছন্দ মতো শর্ট বা সেমিলং পাঞ্জাবি আর রাতের পার্টিতে অবশ্যই জমকালো পাঞ্জাবি পরা সমীচীন হবে বলে মনে করেন বিপ্লব সাহা। রঙের পাঞ্জাবি মানেই বিভিন্ন রঙের খেলা। পাঞ্জাবির ডিজাইন ও রঙ নিয়ে বলেন, রঙ বছরজুড়ে পাঞ্জাবি নিয়ে যত নতুন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার ফলাফল চলে আসে ঈদে। রঙের ঈদের পাঞ্জাবিতে সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। উৎসবে অনেকেই জমকালো পাঞ্জাবি পছন্দ করেন। রঙে ক্রেতা সাধারণের চাহিদা অনুসারে অ্যান্ডি, অ্যান্ডি কটন, অ্যান্ডি সিল্ক, জামদানি, কাতানের কাজ, ডুপিয়ান কাপড়ের পাঞ্জাবিতে ব্লক, স্প্রে, টাই-ডাই, স্কিন প্রিন্ট।

এছাড়াও অ্যাপলিক, এম্ব্রয়ডারি, কারচুপি, হাতের ভরাট কাজ ও বিভিন্ন লেস ব্যবহার করে পাঞ্জাবিতে দেয়া হয়েছে উৎসবের ছোঁয়া। এদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউস যাত্রা পুরনো ফেলে দেয়া কাপড়কে নতুন করে তাঁতীদের দিয়ে রিসাইকেল উপাদান যোগ করে নতুন মোটিফের পাঞ্জাবি এনেছে। পাঞ্জাবির হালচাল নিয়ে জানতে চাইলে ফ্যাশন হাউস যাত্রার কর্ণধার ও ডিজাইনার আনুশেহ্ আনাদিল বলেন, ঈদের পাঞ্জাবিতে থাকছে উৎসবের সব রঙ। প্যাঁচ-ওয়ার্কস, হালকা এবং ঘন হাতের কাজ, ব্লক, স্কিন প্রিন্ট এবং বিভিন্ন রঙের টাইডাই সবই রিসাইকেল কাপড়গুলোতে জৌলুস আনতে সহায়ক হয়েছে। কাপড়ের রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মৃত্তিকা, বায়ু, অগ্নি ও জলের বিভিন্ন শেড। ঈদের চাহিদা, গরম ও ঐতিহ্যের কথা চিন্তা করে ফ্যাশন হাউস কে-ক্রাফট এ বছর বেশ কিছু ডিজাইন ও পাঞ্জাবির স্টাইল এনেছে। এবারের ঈদ চলতি পাঞ্জাবির ফ্যাশন নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন হাউস কে-ক্রাফটের কর্ণধার ও ডিজাইনার খালিদ মাহমুদ খান বলেন, এবার ঈদে হাতের কাজের শর্ট পাঞ্জাবি বাজার দখল করে আছে। পাশাপাশি অ্যান্ডি ও সুতির হাতের কাজের পাঞ্জাবিও বেশ চলবে। ঈদে কে-ক্রাফট ফ্লোরাল ও জ্যামিতিক মোটিফের পাঞ্জাবি বাজারে এনেছে। কোন রঙের পাঞ্জাবি বেশি চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীল এবং সবুজের বিভিন্ন শেডের পাঞ্জাবি এবার বেশ চলছে। ফ্যাশনের ট্রেন্ড প্রতিনিয়তই বদলে যায়, তাই পাঞ্জাবিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। পাঞ্জাবির কারুকার্জ কাটছাট নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন হাউস ‘তারা মার্কা’র কর্ণধার ও ডিজাইনার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ঈদ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই ঈদে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। আর ছেলেদের ঈদের কেনাকাটর একটা বড় অংশ বরাদ্দ থাকে পাঞ্জাবির জন্য। ঈদে সবসময় নতুন কিছু পরতে চায় সবাই। এবার ঈদে তারা মার্কা ফতুঞ্জির নতুন ভার্সন এনেছে। ফতুঞ্জিকে কিছুটা আধুনিক করে ফিটিং করা হয়েছে। এক সাইড দিয়ে বোতাম এক ছাটা করে পাঞ্জাবিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদি, তাঁতের, ব্লক, বটিক, অ্যাপ্লিক এম্ব্রয়ডারির কাজ করা পাঞ্জাবি তো থাকছেই। এবার ঈদে কোন ধরনের পাঞ্জাবির ট্রেন্ড চলছে বা উপযোগী ফ্যাশন নিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানইস হল লাইট কালোর বিভিন্ন শেডের পাঞ্জাবিগুলো। তবে শর্ট পাঞ্জাবির পাশাপাশি সেমি লং পাঞ্জাবির ট্রেন্ড ফিরে এসেছে।

উৎসবে রাঙানো পাঞ্জাবি : বাঙালির ফ্যাশনে পাঞ্জাবির অবস্থান বেশ দৃঢ়। তাই পাঞ্জাবিকে নিয়ে ডিজাইনরাদের ঘষামাজা সবসময়ই চলে। ঈদের পাঞ্জাবিতে প্রতি বছরই আসে নতুনত্ব। পাঞ্জাবির ফ্যাশনপাড়া ঘুরে দেখা যায়, পাঞ্জাবিতে থাকছে নানারকম কাট ও নকশার ব্যবহার। গলায় ও হাতায় থাকছে ভিন্নধর্মী কাজ। অ্যান্ডি, খাদি, সুতি, সিল্ক ও কাতান কাপড়ে হাতের কাজ, নকশি কাঁথার কাজ, এম্ব্রয়ডারির কাজ সেই সঙ্গে রয়েছে প্রিন্টের কাজ। পাঞ্জাবিতে ভিন্নতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে তৈজষপত্রের ডিজাইন। কাটিংয়েও ভিন্নতা তো থাকছেই। পাঞ্জাবির ডিজাইন ও রং নিয়ে ডিজাইনাদের কথা আপনারা জেনেছেন। ঈদের পাঞ্জাবি নিয়ে কথা বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের ছাত্র রাহাত, অপু ও মামুনের সঙ্গে। তারা বলেন, ছেলেদের ঈদ মানেই পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির বিশেষত্বে প্রাধান্য পায় রং ও লেন্থ। প্রকৃতি বিবেচনা করে পাঞ্জাবির রঙ হতে হবে মানানসই রোদ-বৃষ্টির। এই প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক রঙের পাঞ্জাবিগুলোই বেশি প্রাধান্য পাবে। আমাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে প্রথাগত পাঞ্জাবির বাইরেও ভিন্ন প্যাটার্নের শর্ট পাঞ্জাবি ও কোর্তা। সব কিছু মিলিয়ে তারুণ্যের পাঞ্জাবি হতে হবে সবার চেয়ে আলাদা, একটু ভিন্ন ধাঁচের কিন্তু আধুনিক। সব কিছুতেই ফ্যাশনের জন্য মানুষ নতুনত্ব পছন্দ করে। তাই নতুন কিছু এলে সবাই তা গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এবারের পাঞ্জাবিতে নানারকম হাতের কাজ টাইডাই, বাকিট, এম্ব্র্রয়ডারিসহ নানা মাধ্যম। প্রকৃতি থেকে পাওয়া নানারকম মোটিফ ছাড়াও জামদানি ফুলের কম্পোজিশন, নকশি পিঠার অলংকার প্রভৃতির ব্যবহার। পাঞ্জাবিতে সোল্ডার ফিতার ব্যবহার, কখনও কখনও ফুলহাতা পাঞ্জাবির পাশাপাশি থ্রি কোয়ার্টার হাতার পাঞ্জাবি বা ফোল্ডিং হাতার পাঞ্জাবি দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থকবে না- কেননা বদলে যাচ্ছে ফ্যাশনের ট্রেন্ড। প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন স্টাইল। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে কাপড় ও কাজের মানের ওপর ভিত্তি করে পাঞ্জাবিগুলোর দাম পড়বে ৬৫০ থেকে ৬০০০ টাকা।

তৈরি পাঞ্জাবির বাজারে এক চক্কর : পাঞ্জাবিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোÑ এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি নগরীতে বেশ কিছু মার্কেট রয়েছে, সেগুলোতে বিভিন্ন রকম নিত্যনতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। নগরীর রেডিমেড পাঞ্জাবির মার্কেটগুলো গড়ে উঠেছে সায়েন্সে ল্যাবরেটরি, মালিবাগ, নিউমার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সসংলগ্ন গুলিস্থান পীর ইয়ামেনী শপিং কমপ্লেক্সসহ নগরীর ছোটবড় সব ধরনের শপিংমলেই রেডিমেড পাঞ্জাবির মার্কেট রয়েছে। সুতি, সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, টাইডাই, বাটিক ও এম্ব্রয়ডারির পাঞ্জাবির পাশাপাশি পাকিস্তানি, মিসর ও কাশ্মেরী পাঞ্জাবি পাওয়া  যাচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার শর্ট পাঞ্জাবি ও সেমি লং পাঞ্জাবিগুলো বেশি চলছে। চমৎকার বাহারি ডিজাইনের এসব পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৪৫০ টাকা। পাঞ্জাবির সবকিছুই তো জানলেন, যারা এখনও ঈদের পাঞ্জাবি কেনেননি তারা আর দেরি না করে আজই কিনে ফেলুন চলতি হাওয়ার পাঞ্জাবি।

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-08-27 04:14:47